মাদকাসক্ত ছেলের চুরির অপরাধে মা-বাবাকে প্রকাশ্য সালিসে বেঁধে মারধর ও চরম অপমানের জেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন এক জননী। বৃহস্পতিবার সকালে জামালপুর সদর উপজেলার কেন্দুয়া ইউনিয়নের পূর্ব কোটামনি এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। মৃত গৃহবধূর নাম জোছনা বেগম (৪৫), যিনি স্থানীয় কৃষক সুরুজ মিয়ার স্ত্রী। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে প্রতিবেশী কাউসার মিয়ার গোয়ালঘরে গরু চুরির চেষ্টার অভিযোগে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে চড়াও হয় একদল লোক। অভিযুক্ত ছেলে সুজন মিয়া পালিয়ে গেলেও ক্ষুব্ধ জনতা তাঁর বাবা সুরুজ মিয়া ও মা জোছনা বেগমকে টেনেহিঁচড়ে কাউসারের বাড়িতে নিয়ে যায়। অভিযোগ উঠেছে, কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ নায়েব আলীর উপস্থিতিতেই সুরুজ মিয়াসহ আরও তিনজনকে দড়ি দিয়ে বেঁধে বেধড়ক মারধর করা হয়। স্বামীকে বাঁচাতে গিয়ে জোছনা বেগমও শারীরিক লাঞ্ছনা ও চরম কটূক্তির শিকার হন।
বৃহস্পতিবার সকালে সুরুজ মিয়াকে বেঁধে পুরো এলাকায় ঘোরানোর পর ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যাওয়া হয়। এই দৃশ্য দেখে এবং বারবার অপমানিত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন জোছনা বেগম। স্বজনদের দাবি, সমাজের সামনে এই হীনম্মন্যতা সহ্য করতে না পেরে বাড়িতে ফিরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
ঘটনার বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য নায়েব আলী মারধরের নির্দেশ দেওয়ার কথা অস্বীকার করলেও স্থানীয়দের ক্ষোভের কথা স্বীকার করেছেন। জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং এই অমানবিক নির্যাতনের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি স্বাধীন দেশে ছেলের অপরাধের জন্য মা-বাবাকে এভাবে প্রকাশ্যে নির্যাতনের ঘটনা বিচারহীনতার সংস্কৃতিকেই আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে।
