বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৫তম বছরে এসে একরাশ ক্ষোভ উগরে দিলেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। যে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে একসময় তিনি ‘প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে শ্রদ্ধা করতেন, আজ সেই নোবেলজয়ীর ১৮ মাসের শাসনকাল দেখে তাঁকে কেবল ‘এনজিও ও সুদের ব্যবসায়ী’ হিসেবেই দাগিয়ে দিলেন এই বীর-উত্তম। তাঁর সাফ কথা, অন্তর্বর্তী সরকারের কারোর মধ্যেই মুক্তিযুদ্ধের প্রতি বিন্দুমাত্র শ্রদ্ধা ছিল না, বরং সুপরিকল্পিতভাবে মুক্তিযোদ্ধাদের ছোট করার চেষ্টা হয়েছে।
কাদের সিদ্দিকীর মতে, অধ্যাপক ইউনূস যাঁদের নিয়ে সরকার চালিয়েছেন, তাঁদের কারোর সঙ্গেই বাংলাদেশের আত্মিক বা নাড়ির যোগ নেই। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, “ইউনূস মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের মানুষ নন।” স্বাধীনতার প্রতীক ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের ঐতিহাসিক বঙ্গবন্ধু ভবন ধ্বংসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই কলঙ্ক ড. ইউনূস কোনোদিন মুছতে পারবেন না। বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া মানে কেবল ব্যক্তিকে নয়, বরং স্বাধীনতা ও সব মুক্তিযোদ্ধাকেই অবমাননা করা।
বঙ্গবীর আরও বলেন, আজ যে দেড় কোটি বাংলাদেশি বিদেশে উপার্জন করছেন, পাকিস্তান থাকলে তার দেড় লাখও সম্ভব হতো না। অথচ সেই স্বাধীনতার কারিগরদেরই আজ নিজের দেশে পরবাসী হতে হচ্ছে। তাঁর হুঁশিয়ারি, মুক্তিযোদ্ধাদের অবমূল্যায়নের খেসারত গোটা জাতিকে দিতে হবে। মজার ছলে তিনি আরও যোগ করেন, বঙ্গবন্ধুকে ছোট করতে গিয়ে ড. ইউনূস উল্টে শেখ হাসিনাকেই বড় করে ফেলেছেন। কাদের সিদ্দিকীর ভবিষ্যদ্বাণী— “আজ হোক বা কাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আমলেই বঙ্গবন্ধুর বাড়ি ধ্বংসের বিচার শুরু হবে।” একসময়ের ‘মানী’ ইউনূস আজ বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘ঘৃণিত’ মানুষ হিসেবেই থেকে যাবেন বলে মনে করেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের এই প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি।
লেখক : প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ
