ঢাকার বুকে উড়ল পাকিস্তানের নিশান! জিন্নাহর স্বপ্ন ও কাশ্মীর-গাজা আবহে উদযাপিত ‘পাকিস্তান দিবস’
একাত্তরের সেই উত্তাল মার্চের স্মৃতি যখন বাঙালির হৃদয়ে অমলিন, ঠিক সেই ২৩ মার্চের সকালেই ঢাকার গুলশানে পাকিস্তান হাই কমিশনে উড়ল সবুজে-সাদা চাঁদ-তারা খচিত নিশান। সোমবার যথাযোগ্য মর্যাদায় ঢাকায় পালিত হল ‘পাকিস্তান দিবস’। ১৯৪০ সালের লাহোর প্রস্তাবের স্মৃতি উসকে দিয়ে হাই কমিশনার ইমরান হায়দার পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করেন। ঢাকায় বসবাসরত পাকিস্তানি নাগরিক, শিক্ষার্থী এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই আয়োজন ঘিরে কড়া নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল হাই কমিশন চত্বর।
অনুষ্ঠানে পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী ইশাক দারের বাণী পাঠ করে শোনানো হয়। পাকিস্তান সৃষ্টির কারিগর কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর আদর্শে একটি ‘শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ’ পাকিস্তান গড়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন ইমরান হায়দার। তবে নিছক পতাকা উত্তোলন বা জিন্নাহ-স্মরণেই সীমাবদ্ধ ছিল না এই অনুষ্ঠান। পাক নেতাদের বার্তায় উঠে এসেছে প্যালেস্তাইন ও গাজার প্রসঙ্গও। ইজরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানোর পাশাপাশি ‘অপারেশন গজব-লিল-হক’-এর প্রসঙ্গ টেনে সন্ত্রাসবাদ দমনে পাকিস্তানের জাতীয় সংকল্পের কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে ২৩ মার্চ বাঙালির কাছে ‘প্রতিরোধ দিবস’ হিসেবে পরিচিত হলেও, হাই কমিশনার এদিন পাকিস্তানে মুসলিমদের জন্য স্বতন্ত্র বাসভূমি গড়ার লড়াই ও পূর্বসূরিদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বাংলাদেশে অবস্থানরত পাকিস্তানি প্রবাসীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি জিন্নাহর স্বপ্নের পাকিস্তান গড়ার সংকল্প নবায়নের ডাক দেন। একাত্তরের বিভাজন আর সমকালীন ভূ-রাজনীতির টানাপড়েনের মাঝে ঢাকার মাটিতে পাকিস্তানের এই জাতীয় দিবস উদযাপন কূটনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।
