নিজস্ব প্রতিনিধি
এক সময়ের ‘সুবিধাবাদী’ হিসেবে পরিচিত এবং আওয়ামী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন এখন নিজেকে ‘স্পষ্টভাষী’ ও ‘জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা’ হিসেবে জাহির করছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টিভির ঈদ আড্ডায় অংশ নিয়ে নিজের ক্যারিয়ারের সংকট, ব্যক্তিগত হতাশা এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে কথা বললেও তার বক্তব্যে ফুটে উঠেছে চরম স্ববিরোধিতা ও সুবিধাবাদের ছাপ।
সংশ্লিষ্ট মহলে অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে নানা সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন বাঁধন। কিন্তু জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের সময় বাতাস বুঝে দ্রুত ভোল পাল্টে ফেলেন তিনি। রাজপথে নেমে “দেশটা কারো বাপের না” বলে স্লোগান দিলেও সমালোচকরা বলছেন, এটি ছিল মূলত নিজের অস্তিত্ব রক্ষার এক কৌশলী চাল। দেশের অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে যখন মব জাস্টিস ও ধর্ষণের মতো ঘটনা নিয়ে সাধারণ মানুষ উদ্বিগ্ন, তখন এই ‘বিপ্লবী’ অভিনেত্রীকে রাজপথে দেখা যায়নি। বরং তিনি বিদেশে ঘুরে বেড়িয়ে নিজের ‘হাওয়া বদল’ করেছেন।
বাঁধন দাবি করেছেন, তার ‘স্পষ্টভাষী’ ইমেজের কারণে নির্মাতারা তাকে কাজে নিতে ভয় পান। তবে ইন্ড্রাস্ট্রির ভেতরের খবর হলো, অপেশাদার আচরণ এবং খামখেয়ালিপনার কারণেই অনেক পরিচালক তাকে এড়িয়ে চলেন।
সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আগে দীর্ঘ দেড় বছর তার হাতে কোনো কাজ ছিল না। কাজ না পেয়ে তিনি ডিপ্রেশনে চলে গিয়েছিলেন এবং তার ওজন বেড়ে ৭৮ কেজি হয়েছিল।
অভ্যুত্থানের পর নতুন বাংলাদেশে বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়ার কথা বললেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই মন্তব্য করছেন, বাঁধন আসলে বৈষম্য দূর করতে নয়, বরং নিজের ক্যারিয়ারের বৈষম্য ঘোচাতে আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। বর্তমানে ঈদে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ এবং ওটিটির ‘চক্র-২’ নিয়ে ব্যস্ত থাকলেও তার এই নতুন অবস্থানকে অনেকেই ‘সুবিধাবাদ জিন্দাবাদ’ নীতির প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন।
সেটে গিয়ে শৃঙ্খলা রক্ষার নামে ঝামেলা করার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে রয়েছে, সেটিকে তিনি ‘ডিসিপ্লিন’ বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু সাধারণ দর্শকদের মতে, আওয়ামী ঘরানার সুবিধাভোগী থেকে রাতারাতি ‘জনতার নেত্রী’ সাজা বাঁধনের এই রূপান্তর আসলে স্রেফ লাইমলাইটে থাকার একটি ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র।
