নিউইয়র্কের জ্যামাইকা হিলসাইড এলাকায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো বাঙালি কমিউনিটির জমজমাট ‘চাঁদ রাত’ উদযাপন। ঈদের আগের রাতে আয়োজিত এই উৎসবটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য এক মিলনমেলায় পরিণত হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হিলসাইড অ্যাভিনিউ ও ১৬৬ স্ট্রিট থেকে শুরু করে ১৭২ স্ট্রিট পর্যন্ত পুরো সড়কজুড়ে ছিল মানুষের উপচেপড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবকে সঙ্গে নিয়ে বিপুল সংখ্যক মানুষ এ আয়োজনে অংশ নেন। প্রবাসের মাটিতে এমন মিলনমেলায় বাংলাদেশি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও উৎসবের আবহ যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়।
হাজার হাজার স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মেহেদি, ঐতিহ্যবাহী পোশাক এবং নানা রকম মুখরোচক খাবারের স্টলগুলোতে ছিল উপচে পড়া ভিড়। প্রবাসে থেকেও দেশের ঈদের আবহ উপভোগ করতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন অংশগ্রহণকারীরা।
প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করেও কমিউনিটির মানুষের অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। আয়োজনে সবচেয়ে বেশি উচ্ছ্বাস দেখা যায় শিশুদের মধ্যে। নতুন পোশাক, খেলনা, মেহেদী আর উৎসবের আবহে তারা দিনভর আনন্দে মেতে থাকে। বড়রাও ব্যস্ত জীবন থেকে কিছুটা সময় বের করে আপনজনদের নিয়ে এই আনন্দঘন পরিবেশে শামিল হন।
বাঙালিদের সংগঠন রাইভালস স্পোর্টিং ক্লাব-এর উদ্যোগে আয়োজিত এই চাঁদ রাত সেলেব্রেশন ছিল নানা আয়োজনে সমৃদ্ধ। অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশন করেন প্রবাসের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পীরা— জুয়েল, রন্টি, রাজিব ভট্টাচার্য, প্রেমা, নাজু আখন্দ ও প্রতীক হাসান। অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পরিবেশনা করেন ‘হিলসাইড প্রিন্স’ খ্যাত সুমন হাসান, যা দর্শকদের বিশেষভাবে মুগ্ধ করে।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফার্স্ট এইড হোমকেয়ারের প্রেসিডেন্ট ড. জিসি প্যাট ও শাহজাদি পারভিন, স্বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এটর্নি মইন চৌধুরী
মধ্যরাত পর্যন্ত চলা এই সাংস্কৃতিক আয়োজনের সমাপ্তি ঘটে মনোমুগ্ধকর আতশবাজির মাধ্যমে, যা উপস্থিত দর্শকদের জন্য এক স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে থাকে।
পুরো অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন শারমিনা সিরাজ সোনিয়া, যিনি তার প্রাণবন্ত উপস্থাপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলেন।
চাঁদ রাত এর এই ইভেন্ট এর কোর্ডিনেটর ছিলেন
রিমেল, অঞ্জাম সিদ্দিকী রাফি, রিফাত জামাল , তৌহিদ
সার্বিক সহযোগিতায় রাব্বি সায়েদ, হাসান, সাকিব, রুবেল, মিঠুন, সৌরভ, রিপন সহ আরও অনেকে।
অনুষ্ঠানটির মিডিয়া পার্টনার হিসেবে ছিল আরটিভি, বায়ান্ন টিভি ও চ্যানেল ফোরটিন।
এই ধরনের আয়োজন প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির বন্ধনকে আরও সুদৃঢ় করছে বলে আয়োজকরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
