নিজস্ব প্রতিনিধি
ঈদের ছুটি শুরুর দ্বিতীয় দিনেই রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় ও চরম অব্যবস্থাপনা পরিলক্ষিত হয়েছে। স্টেশনে দুই স্তরের নিরাপত্তা চৌকি থাকার দাবি করা হলেও, শত শত যাত্রীকে ট্রেনের ছাদে উঠে ঝুঁকিপূর্ণ ভ্রমণ করতে দেখা গেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গগামী ট্রেনগুলোতে তিল ধারণের জায়গা না থাকায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি নিয়ে ছাদে সওয়ার হচ্ছেন।
বুধবার সকাল থেকেই কমলাপুর স্টেশনে যাত্রীদের উপান্তহীন ভিড় দেখা যায়। লালমনিরহাটগামী ‘বুড়িমারী এক্সপ্রেস’সহ বেশ কিছু আন্তঃনগর ট্রেনে আসন না পেয়ে যাত্রীরা ট্রেনের ছাদে উঠে পড়েন। ঢাকার নবাবগঞ্জ থেকে আসা রাজমিস্ত্রি সোহেল রানা জানান, অনলাইনে টিকিট না পেয়ে তিনি স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটেছেন, কিন্তু ভেতরে দাঁড়ানোর জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে ছাদে উঠেছেন। একই চিত্র দেখা গেছে পোশাককর্মী মিনহাজুল ইসলামের ক্ষেত্রেও। জীবনের ঝুঁকি জেনেও বাড়ি ফেরার তাগিদে এই মরণপণ যাত্রায় শামিল হচ্ছেন হাজারো মানুষ।
কমলাপুর স্টেশনের সহকারী বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ আমিনুল হক দাবি করেছেন, রেলওয়ে পুলিশ ছাদে যাত্রী ওঠা রোধে চেষ্টা করছে। তবে সরেজমিনে দেখা গেছে, পুলিশের উপস্থিতিতেই শত শত যাত্রী মই ছাড়াই ট্রেনের ছাদে উঠে পড়ছেন। স্টেশনের প্রবেশপথে টিকিট পরীক্ষার কড়াকড়ি থাকলেও, প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের পর তদারকির অভাবে ট্রেনের ভেতর ও ছাদে তিল ধারণের জায়গা থাকছে না। এর ফলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পোশাককর্মী শিখা বেগমের মতো অনেক নারী যাত্রী তাদের ছোট ভাইবোন বা সন্তানদের নিয়ে স্টেশনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। ট্রেনের কামরায় উপচে পড়া ভিড় দেখে অনেকেই ভেতরে ঢুকতে পারছেন না। যারা আগেভাগে টিকিট কেটেছেন, তারাও সিট দখল হওয়া বা ভিড়ের চাপে আসন পর্যন্ত পৌঁছাতে না পারার দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। আলম নগরের বাসিন্দা শিখা বেগম জানান, যে পরিমাণ ভিড়, ছোট বোনকে নিয়ে ট্রেনে উঠতে পারব কি না তা নিয়েই টেনশনে আছি।
আজ দুটি ঈদ স্পেশাল ট্রেনসহ মোট ৬৬টি ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকলেও যাত্রীদের চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। যদিও রেলওয়ে বলছে ট্রেনগুলো সঠিক সময়ে ছাড়ছে। কিন্তু প্রতিটি ট্রেনই অতিরিক্ত যাত্রী নিয়ে ঢাকা ছাড়ছে। ট্রেনের ছাদে ও ভেতরে এই অতিরিক্ত বোঝাইয়ের ফলে যান্ত্রিক ত্রুটি বা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে গেছে।
টিকিট ছাড়া স্টেশনে প্রবেশ করতে না দেওয়ার কড়াকড়ি থাকলেও, ট্রেনের ছাদ ও ইঞ্জিনে যাত্রীদের অবস্থান প্রমাণ করে যে স্টেশনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বড় ধরনের শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে। সাধারণ মানুষের এই অনিরাপদ ঈদযাত্রা শেষ পর্যন্ত আনন্দদায়ক হবে নাকি বিষাদে রূপ নেবে, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
