নিজস্ব প্রতিনিধি :
রাজনীতিতে আবারও তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ড. শাম্মী আহমেদের একটি সাম্প্রতিক ভিডিও বার্তা দেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, খোদ মার্কিন রাষ্ট্রদূত তাকে সরাসরি প্রস্তাব দিয়েছিলেন দলীয় প্রধান শেখ হাসিনাকে সরিয়ে একটি ‘রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ’ বা পুনর্গঠিত দল তৈরি করতে। ড. শাম্মী স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, গঠনতান্ত্রিক কাউন্সিল ছাড়া দলীয় নেতৃত্বে এমন পরিবর্তন অসম্ভব।
আন্তর্জাতিক ‘ডিপ স্টেট’ বা ছায়া সরকারগুলো প্রায়ই জাতীয়তাবাদী এবং শক্তিশালী জনভিত্তি সম্পন্ন নেতাদের সরিয়ে তাদের অনুগত দুর্বল নেতৃত্ব বসানোর চেষ্টা করে। ড. শাম্মীর বক্তব্যে সেই আশঙ্কাই জোরালো হচ্ছে, যেখানে একটি সুসংগঠিত দলকে নেতৃত্বশূন্য করে তাকে কয়েকটি উপদলে বিভক্ত করাই হলো প্রধান লক্ষ্য। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনাকে ‘মাইনাস’ করার এই প্রস্তাব আসলে বাংলাদেশের সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করার একটি সুগভীর চেষ্টা।
বর্তমানে প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে বিদেশি কূটনীতিকরা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের সাথে বসতে ইতস্তত বোধ করলেও পর্দার আড়ালে যোগাযোগ থেমে নেই। ড. শাম্মী আহমেদ স্পষ্ট করেছেন যে, ব্রিটিশ হাই কমিশনসহ পশ্চিমা দেশগুলোর সাথে নিয়মিত ‘আনঅফিসিয়াল’ যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং সেই আলোচনার নির্যাস সরাসরি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। শেখ হাসিনার ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্ব এবং তৃণমূলের শক্তির বিপরীতে এই আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্র কতটুকু সফল হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
