শামীম আহমেদ
নির্বাচন খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নির্বাচন নিয়ে আমরা আলাপ করি, কারণ নির্বাচন নিয়ে আলাপ করতে হয়। নির্বাচন এবং গণতন্ত্রের মতো illusive addiction মানুষের জীবনে কমই আছে।
নির্বাচন এবং গণতন্ত্র উভয়ই মানুষকে এই অনুভূতি দেয় যে সে প্রাপ্তবয়স্ক এবং রাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন সে নিজের হাতে ভোটের মাধ্যমে করতে পারে। অজপাড়াগাঁয়ের সবচেয়ে ক্ষমতাহীন কেরানীটিও ভাবে দেশের প্রধানমন্ত্রী সেই নির্বাচন করল।
মানব সভ্যতার ইতিহাসে ধর্ম এবং নির্বাচনের মতো well thought, well sought after and well crafted political tools আর আবিষ্কৃত হয়নি যেটি শত শত কোটি মানুষকে একযোগে বিভ্রান্ত করতে পারে।
যেমন ধরুন গতকাল ঢাকায় যে ১৭টি শিশু হামে মারা গেল, তাদের অর্ধেকের বেশী শিশুর পিতামাতা হয়ত গত বৈষম্যের নির্বাচনে তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করেছে এই ধারণা থেকে যে শেখ হাসিনা ছিলেন ভয়ংকর ফ্যাসিস্ট। গতকালের পর তাদের মনোজগতে বিরাট পরিবর্তন আসবে, কিংবা আসবে না!
আবার যারা ট্রাম্পকে ভোট দিয়েছেন, সারা বিশ্বে যুদ্ধের দামামা বাজিয়ে দেবার পর তারা মনে মনে হয়ত তাদের সিদ্ধান্তের জন্য এখন আফসোস করছেন। যারা শুভেন্দুকে ভোট দিয়ে জিতিয়ে ভাবছেন পশ্চিমবঙ্গে এবার উন্নয়নের জোয়ার বইবে, বাংলাদেশে তার যেসব সমর্থক ভাবছেন শেখ হাসিনা ক্ষমতায় ফিরল বলে, মাস ছয়েক পরেই যখন বর্ডারে লাখ লাখ মুসলমানকে বাংলাদেশী সাজিয়ে ঠেলা শুরু হবে, তখন তাদের চিন্তার জগতে আলোড়ন উঠবে।
আদতে এদের কারও সিদ্ধান্তেই কোন প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে, বাংলাদেশের হামে, পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন সীমান্তবর্তী অস্থিরতায় কোন ভূমিকা ছিল না কিংবা থাকবে না। দাবার এসব চাল গণতন্ত্রে নির্ধারিত হয় না, গণতন্ত্র শুধু বিক্রি হয় বুদ্ধিবৃত্তিহীন মধ্যবিত্তের কাছে।
কিন্তু ওই যে নির্বাচন এবং গণতন্ত্র এমনই illusional যে সেটি মানুষকে অভুতপুর্ব ক্ষমতার ‘অনুভূতি’ দেয়। মূলত মধ্যবিত্ত ভোটাররা ক্ষমতাহীন। ৫ বছর পর পর তাদের মৃতপ্রায় জীবনকে ভোট দিয়ে সরকার পরিবর্তন করার মতো ক্ষমতাধর দেখিয়ে জীবিত রাখা হয়, ঠিক যেভাবে ধর্মে সঠিক কাজ করো, সৎ পথে চলো, সত্য কথা বলে পরকালে লাল আঙুরের লোভ দেখিয়ে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করা হয় এই বিশ্বব্রক্ষান্ডেই!
শামীম আহমেদ
৫ মে ২০২৬
