সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তারের তিন মাস পর গত ১৪ মার্চ কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন প্রবীণ সাংবাদিক আনিস আলমগীর। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে নিজের গ্রেপ্তার, ডিবি হেফাজত এবং জেলজীবনের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি সম্প্রতি মুখ খুলেছেন। তাঁর মতে, বিশেষ করে আওয়ামী লীগ ঘরানার বন্দিদের যেখানে রাখা হয়েছে, সেটি ছিল ‘জেলখানার ভেতরে আরেকটা জেল’।
গ্রেপ্তারের দিনটির স্মৃতিচারণ করে আনিস আলমগীর জানান, জিম পরিদর্শনের নাম করে তাঁকে ডিবি পরিচয়ে তুলে নেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘক্ষণ বসিয়ে রাখার পর রাতে একটি ‘সাজানো’ মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। ডিবি কার্যালয়ের সেই নির্জন ঘরটি ছিল মশা আর নালার দুর্গন্ধে ভরা, যেখানে এক রাত চোখের পাতা এক করতে পারেননি তিনি।
কারাগারের অব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি জানান, শুরুতে তাঁকে সাধারণ বন্দিদের সাথে রাখা হয়েছিল। সেখানে ৩৫ জন লোকের জন্য ছিল মাত্র একটি টয়লেট, যেখানে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হতো। পানির সংকট ছিল নিত্যসঙ্গী। পরবর্তীতে ডিভিশন পেলেও সেই কক্ষের বাইরে যাওয়ার কোনো অনুমতি ছিল না, যা তাঁর কাছে অত্যন্ত পীড়াদায়ক মনে হয়েছে
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে এই সাংবাদিক বলেন, সন্ত্রাস দমন আইনের এই মামলাগুলো সম্পূর্ণ ভুয়া এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। তাঁর অভিযোগ, ড. ইউনূস জুলাই হত্যাকাণ্ডের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। কারণ প্রকৃত দোষীদের বিচার না করে শত শত নিরপরাধ মানুষকে ঢালাও মামলায় ঢুকিয়ে রাখা হয়েছে, যার ফলে মামলার কোনো মেরিট থাকছে না।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতা নিয়ে আনিস আলমগীর দাবি করেন, আওয়ামী লীগ আমলের চেয়েও বর্তমানে কণ্ঠরোধের মাত্রা বেশি। তিনি বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার-এর মতো পত্রিকাকে টার্গেট করা হয়েছে এবং জেলখানায় এই পত্রিকাগুলো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কোনো পত্রিকা অফিসে ‘মব’ বা হামলা করা এখন যেন সাধারণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করে তিনি বলেন, অতীতে সমালোচনার কারণে তাঁকে বিএনপি-জামায়াত তকমা দেওয়া হয়েছিল, আর এখন বলা হচ্ছে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’। তিনি স্পষ্ট জানান, সাংবাদিকের কাজ কোনো সরকারকে টিকিয়ে রাখা নয়, বরং সত্য তুলে ধরা। ভয় না পেয়ে আগামীতেও তিনি নিরপেক্ষ সাংবাদিকতা চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
