লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলায় ভিজিএফ কার্ডের বরাদ্দ নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপি নেতার কথোপকথনের একটি অডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে কালীগঞ্জ উপজেলার মদাতি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক শামসুজ্জামানের কথোপকথন শোনা যায়। শামসুজ্জামান লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিনের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক ছিলেন। একই বিষয়ে উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বিধান চন্দ্র রায়ের সঙ্গেও চেয়ারম্যানের আরেকটি কথোপকথনের অডিও ছড়িয়ে পড়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মদাতি ইউনিয়নে দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষের জন্য ৩ হাজার ৩৪৫টি ভিজিএফ কার্ড বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এর মধ্যে সংসদ সদস্যের অংশ হিসেবে ৩০ শতাংশ অর্থাৎ ১ হাজার ৩টি কার্ড দাবি করেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান।
ছড়িয়ে পড়া অডিওতে তাকে চেয়ারম্যানের কাছে ওই কার্ডগুলো প্রতিনিধিদের মাধ্যমে বুঝিয়ে দেওয়ার কথা বলতে শোনা যায়। এ সময় চেয়ারম্যান বলেন, বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে এবং প্রতিনিধিদের কাছ থেকে তালিকা নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্কাতর্কির কথাও শোনা যায়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা শামসুজ্জামান। তিনি বলেন, অডিও নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে। তার দাবি, সংসদ সদস্যের পক্ষ থেকে যাদের তালিকা দেওয়া হয়েছে তারা সবাই প্রকৃত দরিদ্র এবং তারাই সরাসরি সহায়তা গ্রহণ করবেন।
এদিকে অডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বুধবার রাতে ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে ২০২৫ সালের একটি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে পরে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
চেয়ারম্যানের স্ত্রী রুমি বেগম অভিযোগ করেছেন, ভিজিএফ কার্ডের ৩০ শতাংশ বরাদ্দ নিয়ে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের জেরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বাদী উপপরিদর্শক মো. হাফিজুর রহমান বলেন, তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে তাকে নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয় এবং পরে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।