লেখকঃ নাসরীন সুলতানা, সহযোগী অধ্যাপক, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়
রাষ্ট্রপতির ভাষণ নিয়ে এত মনোকষ্টের কিছু নেই। আপনারা এর আগে বিএনপির শাসনামল দেখেননি? ডা এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীকে মনে আছে? তিনি সংসদে খালেদা জিয়ার পাশের সিটে বসতেন। সেই বি চৌধুরী যখন রাষ্ট্রপতি তখন তাঁকে সংসতে ইম্পিচ করার প্রস্তাব বিএনপি তুলেছিল।
তবে সেই সময়ের সংসদ সত্যি খুব নান্দনিক ছিল। চমৎকার বিতর্ক হতো। সাংসদদের বক্তব্য থেকে অনেক কিছু জানার ছিল। আমি তখনই ইম্পিচ কী কী কারণে করা যায় সে বিষয়ে জেনেছিলাম। বিল ক্লিনটনের বিরুদ্ধে মনিকা লিওনস্কি ইস্যুতে ইম্পিচ করার কথা উঠেছিল।
যাইহোক, যার যার সিদ্ধান্ত তাকে নিতে দিন। রাজনীতিতে ভোল পাল্টানো নতুন কিছু নয়। বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে নতুন করে বাঁচার আশা দিয়েছে। গত ১৮ মাসে আওয়ামী লীগের অসংখ্য সুবিধাভোগী হয় দল পাল্টেছে না হয় কথা পাল্টেছে। একজনের বক্তব্যে কি বা যায় আসে।
বিএনপির কি দায় পড়েছে যে তারা বক্তব্য লিখে আওয়ামী লীগের প্রশংসা করবে। গত ১৮ বছর তাদের উপর তো কম ঝড় যায়নি। সেটিও মনে করুন। বিএনপি তাদের কাজটি করেছে। আপনারা নিজেদের কাজ করুন। নিজেদের পরিবর্তন করুন। সময় বদলেছে, সব কঠিন হচ্ছে। আওয়ামী লীগের সাফল্যের কারণেও শত্রু অনেক বেশি।
সংসদীয় গণতন্ত্রে এ দেশে রাষ্ট্রপতি কি ভাষণ দিলো সেটা কোনদিন মূখ্য বিষয় ছিল না। কারণ রাষ্ট্রপতির ভাষণ রাষ্ট্রপতির নয়। সেটা সরকারের লেখা। রাষ্ট্রপতি কেবল বক্তব্য পাঠ করেছেন যেমন স্বাধীনতার ঘোষনাপত্র অনেকেই পাঠ করতে পারেন।
