“যদি জুলাই ২৪ না হত, আমার মতো লোক ফাঁসির সেল থেকে সংসদে আসতে পারত না।”
— কথাটি বলেছে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এবং যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি এটিএম আজহারুল ইসলাম। এই বক্তব্যের মাধ্যমে আসল সত্য উন্মোচিত হয়েছে -জুলাই ষড়যন্ত্রের পিছনে কারা ছিল এবং জুলাই আসলে আমাদের কী দিয়েছে।
লাল বৃত্তে যে ছবিটি দেখা যাচ্ছে সেটি হলো যুদ্ধাপরাধী খুনি এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম। আজ সংসদ অধিবেশনে অংশগ্রহণ করেছে ১৯৭১ সালে ১,৪০০ জন নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যায় অংশ নেওয়া যুদ্ধাপরাধী খুনি এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, যুদ্ধাপরাধী ও জামায়াত নেতা এ. টি. এম. আজহারুল ইসলাম পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সঙ্গে মিলে রংপুরের কয়েকটি গ্রামে ১,৪০০ জন নিরস্ত্র বাঙালিকে হত্যা করে। অন্যান্য স্থানেও সে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে সহযোগিতা করে এবং অসংখ্য মানুষ হত্যায় অংশ নেয়।
(১) ১৯৭১ সালের ১৬ এপ্রিল, যুদ্ধাপরাধী আজহারুল ইসলাম পাকিস্তানি সেনাবাহিনী এবং জামায়াত সদস্যদের সঙ্গে মিলে মোকসেদপুর গ্রামে আক্রমণ চালায়। তারা বাড়িঘরে লুটপাট চালায়, অগ্নিসংযোগ করে এবং অসংখ্য নিরস্ত্র সাধারণ মানুষকে হত্যা করে।
(২) ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল, আজহারুল ইসলাম রংপুরের ঝাড়ুয়ার বিলের কাছে হিন্দু-অধ্যুষিত একাধিক গ্রামে পরিকল্পিত হামলায় অংশ নেয়। এতে প্রায় ১,২০০ জন নিহত হয় এবং আরও ২০০ জনের বেশি মানুষকে অপহরণ করে হত্যা করা হয়। জয়েন্ট ক্রিমিনাল এন্টারপ্রাইজ (JCE)–এর অধীনে এই আজহারুল দোষী সাব্যস্ত হয়।
(৩) ১৯৭১ সালের ৩০ এপ্রিল, আজহারুল ইসলাম রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে চারজন হিন্দু অধ্যাপক ও একজন অধ্যাপকের স্ত্রীকে অপহরণ করে। পরে তাদের হত্যা করা হয়। সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয় যে আজহারুল অপহরণ ও হত্যায় সরাসরি অংশ নিয়েছিল।
ইতিহাসের একটি কলঙ্কিত অধ্যায় আজ। সংসদে যুদ্ধাপরাধী, বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতাকারী এবং একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি অংশ নিয়েছে। এটি গণতন্ত্র, আইনের শাসন, মানবাধিকার এবং সভ্যতার বিরুদ্ধে একটি যাত্রার শুরু।
এই হলো নতুন বাংলাদেশ!
এটিএম আজহারুল ইসলাম
