একটি স্বাধীন দেশের জন্ম এবং ক্ষমতা দখলের ঘটনাকে এক বানিয়ে, মুক্তিযুদ্ধকেই অপমান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হলেই কেন আলতাফ চৌধুরী, বাবর কিংবা ম. খা. আলমগীরের মতো বেফাঁস মন্তব্য করতে হবে—এটা সত্যিই বোধগম্য নয়।
তিনি বলেছেন, জুলাইয়ের ৫ আগস্টের পর পুলিশসহ সহস্রাধিক মানুষ হত্যার ঘটনায় জড়িতদের বিচার হবে না—ইউনুসের এই অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করবেন। এর আগেও বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের এবং অপারেশন ক্লিনহার্টে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের বিচার না করার জন্য আইন আপনারা প্রণয়ন করেছিলেন। এভাবে কি কখনো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়?
জুলাই ইনডেমনিটি জায়েজ করতে একটা মিথ্যা যুক্তিও তিনি দিয়েছেন। কারণ, মুক্তিযুদ্ধের পর রাজাকার হত্যার বিচার করা যাবেনা এরকম কোন আইনই বাংলাদেশে হয়নি।
পুলিশ সরকারি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, এবং আইনের মধ্যেই তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে। আর জুলাইয়ের ঘটনাপ্রবাহে আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীরা কোনো হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছে—এমন প্রমাণও নেই। তবুও সহস্রাধিক হত্যা করেছে জুলাই সন্ত্রাসী ক্ষমতা দখলকারীরা।
অনেকে প্রশ্ন করতে পারেন—জুলাইয়ের ঘটনাকে কেন আমি ক্ষমতা দখল বলছি, কেন অভ্যুত্থান বলছি না?
কারণ, ১৯৬৯ সালে এই দেশে গণঅভ্যুত্থান হয়েছিল, সেই অভ্যুত্থানের নায়ক তোফায়েল আহমেদ, আবদুর রাজ্জাকরা ক্ষমতার চেয়ারে বসেননি। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানেও আমানউল্লাহ আমান, হাবিবুর রহমান হাবিব, শফি আহমেদরা পরবর্তী সরকারে উপদেষ্টা হননি।
নাহিদ আসিফ মাহফুজরা শুধু ক্ষমতার চেয়ারই দখল করেননি, টোকাই থেকে হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন।
লেখকঃ আশরাফুল আলম খোকন
