বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের বিরুদ্ধে নতুন বাণিজ্য তদন্ত শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার অভিযোগ খতিয়ে দেখতে এই তদন্ত শুরু করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন প্রশাসন।
বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার বলেন, সেকশন ৩০১ আইনের অধীনে এই তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে। তদন্তে কোনো দেশের বিরুদ্ধে অন্যায্য বাণিজ্যচর্চার প্রমাণ মিললে সেই দেশের পণ্যের ওপর নতুন আমদানি শুল্ক আরোপ করা হতে পারে।
এই তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ, ভারত, চীন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও মেক্সিকোর মতো বড় অর্থনীতির দেশ। পাশাপাশি ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া, সিঙ্গাপুর, ইন্দোনেশিয়া, সুইজারল্যান্ড ও নরওয়েও তদন্তের আওতায় এসেছে।
মার্কিন প্রশাসন আশা করছে, চলতি গ্রীষ্মের মধ্যেই তদন্ত শেষ হবে এবং প্রয়োজনে নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে।
এর আগে গত বছর এপ্রিল মাসে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে কয়েক সপ্তাহ আগে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ওই শুল্ক আরোপকে অবৈধ বলে রায় দেয়।
আদালত জানায়, আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন ব্যবহার করে প্রেসিডেন্ট এককভাবে শুল্ক আরোপ করতে পারেন না। সংবিধান অনুযায়ী এই ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে।
রায়ের পরও ট্রাম্প প্রশাসন নতুন করে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেয় এবং ভবিষ্যতে তা ১৫ শতাংশে বাড়ানোর হুমকিও দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন এই তদন্তের মাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসন তার বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর আরও কঠোর শুল্ক আরোপের পথ তৈরি করতে চাইছে।
এদিকে এই সপ্তাহের শেষে প্যারিসে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই আলোচনা ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে সম্ভাব্য উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকের পথ তৈরি করতে পারে।
