ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণের সময় তিনি মঞ্চেই উপস্থিত ছিলেন এবং সেই ভাষণে বঙ্গবন্ধু কখনো ‘জয় পাকিস্তান’ বলেননি বলে দাবি করেছেন স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের তৎকালীন নেতা আ স ম রব।
তিনি বলেন, পরবর্তীকালে কেউ কেউ এ নিয়ে বিতর্ক তৈরি করলেও বাস্তবে এমন কোনো কথা উচ্চারিত হয়নি।
শনিবার(৭ মার্চ) এক ফেসবুক স্যাটাসে ঐতিহাসিক সাত মার্চ নিয়ে তোলা উদ্দেশ্যমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে তিনি এ মন্তব্য করেন।
রব বলেন, ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লাখো মানুষের সমাবেশে শেখ মুজিবুর রহমান যে ভাষণ দেন, তা ছিল সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার অংশ এবং স্বাধীনতার জন্য জাতিকে প্রস্তুত করার কৌশলগত ঘোষণা।
তার ভাষায়, সেদিন সারা দেশ থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ঢাকায় এসে জড়ো হয় এবং রেসকোর্স ময়দান জনসমুদ্রে পরিণত হয়। খবর রটেছিল, বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে সমাবেশে বোমা হামলা বা বিমান হামলা হতে পারে। সেই পরিস্থিতির মধ্যেই বঙ্গবন্ধু জাতির ভবিষ্যৎ ও আন্দোলনের দিকনির্দেশনা দেন।
রব বলেন, স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে আন্দোলনরত একটি জাতিকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করার মতো গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা তাৎক্ষণিকভাবে দেওয়া সম্ভব নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতি, সম্ভাব্য গণহত্যা এবং জনগণের নিরাপত্তা—সবকিছু বিবেচনায় নিয়ে ৭ মার্চের ভাষণ প্রস্তুত করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ভাষণের শেষ দিকে বঙ্গবন্ধু উচ্চারণ করেন—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই আহ্বানই পুরো জাতিকে স্বাধীনতার লড়াইয়ের জন্য উদ্দীপ্ত করে। এরপর ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দিয়ে ভাষণ শেষ করেন তিনি।
রবের দাবি, পরবর্তীতে কিছু মহল থেকে বঙ্গবন্ধু নাকি ‘জয় পাকিস্তান’ বলেছিলেন—এমন দাবি করা হলেও তিনি নিজে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন এবং এমন কোনো কথা শোনেননি। তার মতে, ঐতিহাসিক সত্যকে বিকৃত করার উদ্দেশ্যেই এ ধরনের বিতর্ক সৃষ্টি করা হয়।
তিনি বলেন, ৭ মার্চের ভাষণের নির্দেশনার পরই অসহযোগ আন্দোলন জোরদার হয়। পরে ১৫ মার্চ বঙ্গবন্ধু ঘোষণা দেন, দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত অহিংস অসহযোগ আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
রব আরও উল্লেখ করেন, মার্চের বিভিন্ন কর্মসূচি স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন, ইশতেহার ঘোষণা এবং ছাত্রসমাজের সংগঠিত আন্দোলন সবই পূর্বপরিকল্পনার অংশ ছিল। এর মধ্য দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র ভিত্তি গড়ে ওঠে।
তার মতে, ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হওয়ার পর বাঙালি জাতি সশস্ত্র প্রতিরোধে নেমে পড়ে এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
