অমর একুশে বইমেলায় ঘুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে লেখা বই খুঁজে পেতে রীতিমতো অনুসন্ধান চালাতে হচ্ছে পাঠকদের। মাত্র পাঁচ বছর আগে মুজিব জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে শত শত বই প্রকাশ হলেও এবারের মেলায় সেই বইগুলোর বেশিরভাগই যেন অদৃশ্য হয়ে গেছে।
মেলার মাঠে ঘুরে দেখা গেছে, অন্তত ২০টি প্রকাশনা সংস্থার স্টলে বঙ্গবন্ধু বিষয়ক কোনো বই প্রদর্শন করা হয়নি। অথচ এসব প্রকাশনা সংস্থা মুজিব জন্মশতবর্ষে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বই প্রকাশ করেছিল। অনেক ক্ষেত্রে বইয়ের নাম বললে বিক্রয়কর্মীরা স্তূপের ভেতর থেকে খুঁজে বের করে দিচ্ছেন, কিন্তু দৃশ্যমানভাবে সেগুলো রাখা হয়নি।
গবেষণাধর্মী গুরুত্বপূর্ণ অনেক বইও এবারের মেলায় পাওয়া যাচ্ছে না। বাংলা একাডেমির প্রকাশিত বেশ কিছু আলোচিত বই—যেমন বঙ্গবন্ধু ও মুজিবনগর সরকার, বঙ্গবন্ধু ও বাংলা ভাষা, বঙ্গবন্ধুর কারাগার জীবন—এবার মেলার স্টলে দেখা যায়নি।
তবে ব্যতিক্রম রয়েছে কিছু প্রকাশনায়। দি ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল) স্টলে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীসহ কয়েকটি বই বিক্রি হতে দেখা গেছে।
মেলা পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্দিষ্ট কোনো বই প্রদর্শন বা বিক্রি না করার বিষয়ে কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। মেলার নীতিমালা অনুযায়ী সৃজনশীল বই প্রদর্শনে কোনো বাধা নেই বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তবে প্রকাশনা সংস্থাগুলোর একাধিক দায়িত্বশীল ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বঙ্গবন্ধু বিষয়ক বই প্রকাশ বা প্রদর্শন নিয়ে অনেক প্রকাশক এখনও সতর্ক অবস্থানে আছেন। তাদের মতে, আগের কিছু ঘটনার কারণে নিরাপত্তা বা বিতর্কের আশঙ্কাও প্রকাশকদের মধ্যে কাজ করছে।
গবেষক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানহীন বই হারিয়ে যায়, কিন্তু মানসম্পন্ন বই টিকে থাকে। তার মতে, অতীতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে অতিরঞ্জিতভাবে অনেক বই প্রকাশিত হয়েছিল, যেগুলোর অনেকগুলো সময়ের স্রোতেই হারিয়ে যাবে। তবে ঐতিহাসিক মূল্যসম্পন্ন বই পাঠক খুঁজে নেবেন।
লেখক ও গবেষক সালেক খোকন বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধুকে বাদ দিয়ে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়। তবে ইতিহাস ও গবেষণার ক্ষেত্রে মুক্ত ও নির্ভয় পরিবেশ থাকা জরুরি, যাতে বঙ্গবন্ধু, ভাসানী, জিয়াউর রহমান কিংবা তাজউদ্দীন আহমেদের মতো নেতাদের নিয়ে গবেষণা করা যায়।
এদিকে বইমেলায় পাঠকদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শুক্রবার মেলার নবম দিনে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত নানা বয়সী মানুষের উপস্থিতিতে জমে ওঠে মেলা প্রাঙ্গণ। এদিন মেলার তথ্যকেন্দ্রে নতুন বই জমা পড়ে ১৯৯টি।
