বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনকে ঘিরে শুরুতে বড় প্রত্যাশা তৈরি হলেও দেড় বছর পর বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সরকারি পরিসংখ্যান ও অর্থনৈতিক সূচক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই সময়ে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) ও বিনিয়োগ প্রস্তাব দুটিই নিম্নমুখী হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৫ মে যুক্তরাষ্ট্রের মেমফিসে ৪১ হাজার ফুট উচ্চতা থেকে বাংলাদেশের পতাকা হাতে স্কাইডাইভ করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েন আশিক মাহমুদ। পরে তিনি বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পান। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বিনিয়োগ আকর্ষণে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলন, প্রচারণা ও চুক্তির উদ্যোগ নেন।
তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে দেশে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের নিট প্রবাহ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৬ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ২৬ শতাংশ কম। একই সময়ে মূলধনি যন্ত্রপাতি আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা নতুন শিল্প বিনিয়োগের গতি কমার ইঙ্গিত দেয়।
বিডায় নিবন্ধিত বিনিয়োগ প্রস্তাবের সংখ্যাও কমেছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম দশ মাসে নিবন্ধিত প্রকল্পের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮১৪টি, যেখানে আগের বছর একই সময়ে ছিল ১ হাজার ১১৩টি। একইসঙ্গে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহও কমে সাত শতাংশের নিচে নেমে এসেছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, ব্যাংক খাতের সংকট, উচ্চ সুদহার, জ্বালানি ঘাটতি, বন্দর ব্যবস্থাপনার সীমাবদ্ধতা এবং রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা—এসব কারণে বিনিয়োগ পরিবেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও কমছে।
গত বছর বড় পরিসরে একটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের আয়োজন করা হলেও সেখানে ঘোষিত অনেক বিনিয়োগ এখনো বাস্তবায়নের পর্যায়ে পৌঁছায়নি। এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহল ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে।
বিডার পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, অতীতে অনেক অকার্যকর বা বাস্তবায়নহীন প্রকল্প নিবন্ধন করা হতো, সেগুলো বন্ধ করায় নিবন্ধনের সংখ্যা কমেছে। তাদের মতে, বর্তমানে নিবন্ধনের ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই কঠোর করা হয়েছে।
অন্যদিকে সমালোচকেরা বলছেন, বিনিয়োগ বাড়াতে শুধু প্রচারণা নয়, বাস্তব নীতিগত সংস্কার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা জরুরি। ব্যাংক খাতের স্থিতিশীলতা, জ্বালানি সরবরাহ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত না হলে বড় বিনিয়োগ আসা কঠিন।
এ পরিস্থিতিতে বিডার নেতৃত্ব ও বিনিয়োগ আকর্ষণের কৌশল নিয়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন
