বাংলাদেশের কারাগারে বিনা চিকিৎসায় বিরোধী দল আওয়ামী লীগের একের পর নেতাকর্মীর মৃত্যুর সংবাদের মধ্যেই মারা গেলেন আরও একজন ছাত্রলীগ নেতা।
পটুয়াখালীর দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শফিকুল ইসলাম খান কারাগারে বিনা চিকিৎসায় মারা গেছেন পরিবারের এমন অভিযোগের প্রতিক্রিয়ায় কর্তৃপক্ষ বলছে, ‘হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে তার মৃত্যু হয়’।
যদিও কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী মারা গেলে ‘হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা’ যাওয়ার কথা আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পরে গত ১৮ মাস ধরে বলে আসছে কারা কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার এ ছাত্রলীগের সাবেক এ নেতার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন পটুয়াখালী কারাগারের জেলার মো. আব্দুর রব মিয়া।
তিনি পটুয়াখালী সদর উপজেলা ছাত্রলীগের শ্রীরামপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত মো. হাবিবুর রহমান খানের ছেলে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে গণঅভ্যুত্থানের পর ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ১৫ মাসে ১১২ জন কারা হেফাজতে মারা গেছেন, গত দুই মাসে যে সংখ্যা আরও বেড়েছে।
সংস্থাটির হিসেবে ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ১১ মাসে মারা গেছেন ৯৫ জন। আর ২০২৪ সালে ১২ মাসে মারা গেছেন ৬৫ জন। মৃতদের তালিকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যকই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী।
কারা কর্তৃপক্ষ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে পটুয়াখালী কারাগারে সফিক খান হঠাৎ অসুস্থ হওয়ায় তাকে দ্রুত পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
‘সেখানে অবস্থার অবনতি হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে সেখানে তার মৃত্যু হয়’, দাবি কর্তৃপক্ষের।
সফিক খান দুমকী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর ২০২৫ সালের ১১ আগস্ট নিজ বাড়ি থেকে আটক হয়ে রাজনৈতিক মামলায় পটুয়াখালী জেলা কারাগারে হাজতি হিসেবে বন্দি ছিলেন।
মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শেবাচিম মর্গে রাখা হয়েছে এবং প্রতিবেদন হাতে পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা কারাগারের জেলার মো. আব্দুর রব মিয়া জানান, শফিক খান রাজনৈতিক মামলায় গ্রেপ্তার ছিলেন। আগে থেকেই তার হার্টে রিং পরানো ছিল।
“শুক্রবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে পটুয়াখালী মেডেকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করা হয় এবং সেখানে তিনি মারা যান,” যোগ করেন তিনি।
