নরসিংদীর মাধবদী এলাকায় ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বাবার সামনে থেকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, নিন্দা জানিয়েছে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মানবাধিকার সংগঠন।
বুধবার রাতে বিলপাড় এলাকায় বাবার সঙ্গে যাওয়ার সময় স্থানীয় একদল যুবক কিশোরীকে জোর করে তুলে নিয়ে যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে গ্রামের একটি ফসলি জমি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানিয়েছেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শুক্রবার রাতে গাজীপুরের মাওনা থেকে মূল অভিযুক্ত নূর মোহাম্মদ ওরফে নূরাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া কুমিল্লার গৌরিপুর থেকে হযরত আলী নামে আরেকজনকে আটক করা হয়েছে।
এর আগে জড়িত সন্দেহে আরও পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি দুই আসামি পলাতক, তাদের ধরতে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
ওসি জানান, “ঘটনার পর আসামিরা আত্মগোপনে চলে যায়। গোপন তথ্য ও মোবাইল ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
মামলার এজাহার ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, দুই সপ্তাহ আগে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় যুবক নূর ও তার সহযোগীরা কিশোরীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে। এ ঘটনায় বিচার চেয়ে পরিবারটি স্থানীয় মহিষাশুড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও ইউনিয়ন বিএনপির নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ানের কাছে যায়।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয়ভাবে সালিশের চেষ্টা হলেও পরে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরিবারকে এলাকা ছাড়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। এদিকে অভিযোগ উঠেছে, সালিশ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও রফাদফার চেষ্টা হয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যায় কিশোরীকে খালার বাড়িতে রেখে আসতে রওনা হন তার বাবা। বিলপাড় এলাকায় পৌঁছালে নূরার নেতৃত্বে ছয়জন তাদের পথরোধ করে এবং বাবার সামনেই কিশোরীকে তুলে নিয়ে যায়। রাতভর খোঁজাখুঁজির পর বৃহস্পতিবার সকালে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের মা বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে নয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেছেন। এতে চারজনকে ধর্ষক এবং পাঁচজনকে সালিশ-সংশ্লিষ্ট হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারদের মধ্যে স্থানীয় বিএনপি নেতা আহম্মদ আলী দেওয়ান ও তার ছেলে ইমরান দেওয়ান রয়েছেন। এছাড়া নূরার চাচাত ভাই মোহাম্মদ আইয়ুব, একই এলাকার এবায়দুল্লাহ এবং হোসেন বাজার এলাকার গাফফারকেও আটক করা হয়েছে।
ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবার আগে থানায় অভিযোগ করলে হয়তো পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তিনি বলেন, অভিযুক্তদের ধরতে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চলছে।
গ্রেপ্তার পাঁচজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করলেও বিচারক মেছকাতুল ইসলাম রিমান্ড শুনানির দিন ধার্য করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
ময়নাতদন্ত শেষে কিশোরীর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার ও ঘটনার পূর্ণ তদন্তে একাধিক টিম কাজ করছে।
