বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে তাকে আটক করা হয়।
তার সঙ্গে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও তিন শিক্ষার্থী মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদার গ্রেপ্তার হয়েছেন।
শুক্রবার তাদের ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক আরমান আলী আসামিদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন।
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে রাজ্জাকসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এছাড়া অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ২২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, বাদী নির্জন ও তার বন্ধুদের সঙ্গে আসামিদের পূর্ব শত্রুতা ছিল। গত বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ তলার ৪১২ নম্বর কক্ষে দেখা হলে আসামিরা তাকে স্থায়ী ক্যাম্পাস ও কনভোকেশনে অংশগ্রহণের বিষয়ে চাপ দেন।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মো. আনিসুর রহমানের সঙ্গে কথা বলার সময় আসামি রাজ্জাকের নির্দেশে রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে নির্জনকে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এতে তিনি পিঠ ও বুকে আঘাত পান।
অভিযোগে আরও বলা হয়, রাজ্জাক একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে নির্জনের মুখমণ্ডলে আঘাত করেন। এতে তার নাকের উপরিভাগ কেটে যায় এবং তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। শিক্ষক ও সহপাঠীরা এগিয়ে এলে আসামিরা হুমকি দিয়ে সরে যায়।
খবর পেয়ে গুলশান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে।
এর আগে গত বছরের ২৬ জুলাই রাজধানীর গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির ঘটনায়ও রাজ্জাক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। সেই ঘটনায় তিনি আলোচনায় আসেন।
বর্তমানে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
