নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পরপরই প্রশাসন পুনর্গঠনে বড় পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সেনাবাহিনী থেকে জনপ্রশাসন, আইনাঙ্গন থেকে সিটি করপোরেশন মাত্র ২৪ ঘণ্টায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি ও অব্যাহতির সিদ্ধান্ত এসেছে।
১৭ ফেব্রুয়ারি সরকার গঠনের পর রোববার সন্ধ্যায় সামরিক বাহিনীতে রদবদলের প্রজ্ঞাপন জারি হয়। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জনপ্রশাসন, আইন বিভাগ ও স্থানীয় সরকারে একের পর এক পরিবর্তনের ঘোষণা আসে।
সরকার গঠনের পরপরই মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও মুখ্য সচিব পরিবর্তন করা হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, শিক্ষা ও ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ তিন সচিবকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া কয়েকজন সাবেক সচিবের চুক্তিও বাতিল করা হয়েছে। এদের মধ্যে স্বাস্থ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, পরিকল্পনা কমিশন, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরের কর্মকর্তারা রয়েছেন।
সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) পদে পরিবর্তন আনা হয়েছে। লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস এম কামরুল হাসানকে সরিয়ে ওই পদে পদোন্নতিসহ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে মীর মুশফিকুর রহমানকে।
প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক পদেও পরিবর্তন এসেছে। মেজর জেনারেল জাহাঙ্গীর আলমের স্থলে দায়িত্ব পেয়েছেন মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ। সেনাবাহিনীর চিফ অব জেনারেল স্টাফ (সিজিএস) পদেও রদবদল হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–এর প্রধান প্রসিকিউটর পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আমিনুল ইসলামকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
তাজুল ইসলাম দায়িত্ব ছাড়ার সময় বলেন, রাজনৈতিক সরকার রাজনৈতিক নিয়োগ দেবে—এটি অনুমেয় ছিল।
এদিকে হাই কোর্ট বিভাগের বিচারপতি মামনুন রহমান ও বিচারপতি নাইমা হায়দারের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকারেও বড় পরিবর্তন এসেছে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ, খুলনা, গাজীপুর, সিলেট ও নারায়ণগঞ্জ—এই ছয় সিটি করপোরেশনে প্রশাসক হিসেবে বিএনপির নেতাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
ঢাকা দক্ষিণে মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তরে শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, খুলনায় নজরুল ইসলাম মঞ্জু, সিলেটে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, নারায়ণগঞ্জে সাখাওয়াত হোসেন খান এবং গাজীপুরে শওকত হোসেন সরকার প্রশাসকের দায়িত্ব পেয়েছেন।
নতুন সরকারের এই দ্রুত রদবদলকে প্রশাসন নিজের আস্থাভাজনদের মাধ্যমে সাজানোর উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নিয়োগ পাওয়া অনেক কর্মকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হয়েছে, প্রশাসনকে কার্যকর ও সমন্বিতভাবে পরিচালনার স্বার্থেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে এত স্বল্প সময়ে ব্যাপক পরিবর্তন ভবিষ্যৎ প্রশাসনিক গতিপথ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
