নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল–এর (আইসিটি) সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাবেক এক আইজিপিকে রাজসাক্ষী করার বিনিময়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।
সদ্য বিদায়ী চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ তুলেছেন ট্রাইব্যুনালেরই এক সহকর্মী প্রসিকিউটর।
প্রসিকিউটর বি. এম. সুলতান মাহমুদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, টাকার বিনিময়ে সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন–কে রাজসাক্ষী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
তিনি এ ঘটনায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শিশির মনির–এর সংশ্লিষ্টতার অভিযোগও তোলেন।
সুলতান মাহমুদের দাবি, জুলাই–আগস্টের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপিকে জিজ্ঞাসাবাদের সময় ধানমন্ডিতে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একটি ‘সমন্বিত প্রক্রিয়া’ চলছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের রাজসাক্ষী করে দায়মুক্তির পথ তৈরি করার চেষ্টা ছিল এবং এ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অন্তত একটি মামলায় আসামির স্বজন অর্থসহ প্রসিকিউশন-সংশ্লিষ্ট কক্ষে প্রবেশ করেছিলেন। বিষয়টি তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করলেও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন। পরে ওই আসামিকে রাজসাক্ষী করা হয় এবং বিচারে খালাস দেওয়া হয়—এমন অভিযোগও তাঁর পোস্টে উল্লেখ আছে।
এ ছাড়া কয়েকটি আলোচিত মামলায় ভিডিও প্রমাণ বা সাক্ষ্য থাকা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নেওয়া এবং কিছু মামলার বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার অভিযোগও তোলেন তিনি।
এ অবস্থায় প্রসিকিউশন টিমের ভেতর থেকে ওঠা এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
এ অভিযোগগুলোর পরেই তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দিয়ে আমিনুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর করেছে সরকার।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বা আইনজীবী শিশির মনিরের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।
ট্রাইব্যুনাল বা সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি।
