লেখকঃশামীম আহমেদ
ইউনুস-পঞ্চতান্ডব-ডার্টিমাস্টারমাইন্ডস-ডাস্টবিনশফিকরা ১৮ মাস দেশটাকে এতটাই লন্ডভন্ড করেছে যে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম দল বিএনপি; বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে একটি অসাংবিধানিক নির্বাচনের মাধ্যমে জিতে সরকার গঠন করাকেও আমরা সাময়িকভাবে মেনে নিয়েছি।
কেন? কারণটা আমি ২০২৪ এর শেষে আমার বন্ধুদের বলেছিলাম। ইউনুস ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা যে কয়দিন দেশে থাকবে তারা দেশটাকে এমন করে তছনছ করবে যে এর পর যেই আসবে তাকে ফেরেশতা মনে হবে। ঠিক তাই হয়েছে। বিএনপিকে এখন ফেরেশতা মনে হচ্ছে।
উপরন্তু স্বাধীনতা বিরোধী ধর্মীয় উগ্র সন্ত্রাসী সংগঠন জামাতে ইসলামীকে প্রতিহত করার জন্য এই মুহুর্তে ভারত সরকার ও বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের বিএনপিকে সমর্থন করা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। লক্ষ লক্ষ আওয়ামী সমর্থক নারীরা তাদের অধিকার রক্ষায় জামাতে ইসলামীকে প্রতিহত করতে বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। অজস্র পুরুষ আওয়ামী সমর্থকও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে অক্ষুণ্ণ রাখতে একই কাজ করেছে।
বাংলাদেশের বর্তমান বাস্তবতায় আমরা আপাতত বিএনপি সরকারের বিরোধীতা করছি না। দেখতে চাই তারা কেমন করে! সাধারণত যে কোন সরকারই প্রথম ৩ মাস অনেক চমকপ্রদ কাজ করে, তাই আমি মূলত দেখব বিএনপি ৩ মাস কর কেমন করে?
যতই বিএনপিকে পর্যবেক্ষণ রাখি, আওয়ামী লীগ দুইদিন পর ক্ষমতায় চলে আসবে এটি ভাববার কোন কারণ নেই। গত ১৭ মাস আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল স্বাধীনতাবিরোধী ইউনুস ও তার পাকিবীর্য উপদেষ্টাদের বিদায় করে একটি স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে ক্ষমতায় আনা। বিএনপির নানা সমস্যা থাকলেও তাদের দলে আওয়ামী লীগের মতোই অনেক নিবেদিতপ্রাণ মুক্তিযোদ্ধা আছেন, যাদের অনেকে নানা কারণে আওয়ামী লীগের উপর বীতশ্রদ্ধ হয়ে গত কয়েক দশকে বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন।
বিএনপির যেমন স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আঁতাত করার উদাহরণ আছে, আওয়ামী লীগেরও আছে। সত্য অস্বীকার করা যায় না। বিএনপির হয়ত বেশী আছে, কিন্তু আওয়ামী লীগেরও একদম কম নেই। আওয়ামী লীগের শেষ মন্ত্রীসভার দিকে তাকান। একদল লুটেরা ছাড়া সেখানে দেশপ্রেমী রাজনীতিবিদ কতজন ছিলেন? আওয়ামী লীগ এই মুহুর্তে ক্ষমতায় ফেরার জন্য কতটা প্রস্তুত? প্রশ্ন করুন।
যেহেতু আওয়ামী লীগ ও ভারত মিলে জামাতে ইসলামীকে প্রতিহত করে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসিয়েছে অনেকটাই আমেরিকা ও ইউনুসের ইচ্ছার বিরুদ্ধে, তাই তারেক রহমানের উচিৎ হবে gradually আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফেরার সাংবিধানিক অধিকার ফিরিয়ে দেয়া। আমি যতদূর বুঝি তারেক রহমান নিজে সরকার প্রধান থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনাকে আর রাজনীতিতে ফিরতে দেবেন না, ফলশ্রুতিতে আওয়ামী লীগের বিকল্প কী পরিকল্পনা সেটি ঘোষণা করার সময় এসেছে। বলতে গেলে ইতিমধ্যেই অনেক দেরী হয়ে গেছে।
আমরা আপাতত বিএনপিকে সরকারে মেনে নিয়েছি মানে এই নয় যে জুলাই বেইমান আসিফ-সার্জিস-নাহিদ-আবদুল্লাহ-মাহফুজ-ডাস্টবিন শফিকদের মাফ করে দিয়েছি। এদের সবাইকে বাটার স্যান্ডেল দিয়ে অবশ্যই পেটাতে হবে।
কেউ কেউ আমাকে লেখেন হাদীর প্রতি আমার ক্ষোভ কেন? তার নামের সাথে আমি শাউয়া কেন ব্যবহার করি? আমার নামের আগে কেন আমার কলিগরা ডক্টরেট ব্যবহার করে? কারণ আমি সেটি চেয়েছি, অর্জন করেছি। তেমনি হাদীও যা চেয়েছে, যা অর্জন করেছে, তাই পেয়েছে। আমার যুক্তি হচ্ছে হাদী খোদার চাইতেও শাউয়া শব্দটি বেশী ব্যবহার করেছে। হাদীর মুখে শাউয়া শুনে জাতির অর্গাজম হয়ে গেছে। শাউয়ার উদ্দীপনায় তাকে ইউনুস ও এনসিপি পরিকল্পিতভাবে গুপ্ত শিবিরকে লীগ সাজিয়ে হাদীকে খুন করার পরেও হাদীর চ্যালা-চামুন্ডরা ইউনুস ও এনসিপির বিচার চায়নি, তাদের দায়ী করেনি, ১০ লক্ষ মানুষ, যারা মূলত পাকিস্তানী চেতনায় উজ্জীবীত তারা হাদীর জানাজায় গেছে। ভালো কথা। মৃত মানুষের প্রতি সম্মান জানানো উচিৎ। আমিও খালেদা জিয়াকে জানিয়েছি।
তো যার শাউয়া ডাক শুনে ১০ লক্ষ মানুষ জানাজায় যায়, তার শাউয়া ডাকে আমি কেন উজ্জীবীত হবো না? আমিও তো তার ‘ভাষার’ ভক্তরে ভাই! সন্ত্রাসী হাদীর বক্তৃতায় শাউয়া শুনে অর্গাজম হবে আর আমি বললে হবে পিঠে চুলকানি – এই দ্বিচারিতা তো আমি মেনে নেব না। আমার প্রোফাইলে হাদীর শাউয়া নিয়ে প্রতিবাদ করতে হলে আগে নিজের ওয়ালে পোস্ট দিতে হবে যে “আমি শাউইয়া হাদীকে ঘৃণা করি কারণ সে বাঙালিকে এই শব্দটি উপহার দিয়ে গেছে।”
আপনি কাজের মেয়েকে পেটাবেন, রিকশাওয়ালাকে থাবড়াবেন, মুরগীওয়ালাকে গালি দেবেন, গরীব টমেটো বিক্রেতাকে ঠকাবেন, ড্রাইভারকে গালি দেবেন, ইংরেজিতে ফাক, সাক আর বি*চ বলে পার্টি করবেন, আর আমি শতাব্দীর সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী যার একমাত্র কাজ ছিল বাংলাদেশকে ধ্বংস করা, তার নিজের পছন্দের গালিকে তারই সম্মানে তারই নামের সাথে সম্বোধন হিসেবে জুড়ে দিলে আমার সামনে সুশীলতা *দান সেটা হবে না ভাই, প্লিজ! আমি মির্জা ফখরুলের মেয়ের জামাইর কাছ থেকে শিখেছি কীভাবে সুন্দর করে গালির ব্যবহার করতে হয়। তার ১০ লক্ষ ফলোয়ার হলে, হাদীর পূজারি ১০ লক্ষ হলে; আমার ওয়ালে শাউ*য়া আপনাকে শুনতে হবে আর মেনে নিতে হবে। কারণ আমরা তো ৫ অগাস্ট ২০২৪ এর পর জাতির ফেরেশতা হিসেবে এদেরকে মানি, নাকি? সুশীলতা করতে হলে সেই যোগ্যতা অর্জন করে আমার ওয়ালে আসবেন। সুশীলতার দাঁড়িপাল্লায় আমি দাঁড়ালে আপনার মতো হাজারটা মামুলি পাবলিক স্রেফ উড়ে যাবেন, উড়ে!
সন্ত্রাসী হাদীর বাংলাদেশের জাতি গঠনে কোন ভূমিকা নেই। জঙ্গী ও মৌলবাদের প্রসার ও প্রচার, ১৯৭১ এর পরাজিত পাকিস্তানী আদর্শের পুনর্প্রতিষ্ঠা, মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ভুলন্ঠিত করা, বাংলা ভাষাকে বিকৃত করা এবং বঙ্গবন্ধুর বাড়ি – যেখান থেকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার ডাক এসেছিল সেটি গুঁড়িয়ে দেয়ায় সরাসরি নেতৃত্ব দেয়া এক সন্ত্রাসীর নাম হাদী। তার প্রতি আমার ক্ষোভ নাই, আমি তাকে তার প্রাপ্য সন্ত্রাসীর মর্যাদা দিচ্ছি কেবল! এই জুলাই সন্ত্রাসীদের আজীবন তাদের প্রাপ্য গালিগালাজ দেয়া হবে। বিএনপি সরকার মেনে নেয়া মানে এইসব বেইমান ও তাদের ডলার খাওয়া সুশীল স্পন্সরদের মাফ করে দেয়া নয়।
