নিজস্ব প্রতিবেদক
গত ৫ আগস্ট ২০২৪–এর পর গ্রেপ্তার হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ–সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীদের পক্ষে আদালতে আইনি সহায়তা দেওয়ার প্রেক্ষাপটে পাঁচজন আইনজীবীকে আটক করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। শনিবার পল্টন থানা পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
আটক আইনজীবীরা হলেন—অ্যাডভোকেট গোলাম রাব্বানী, অ্যাডভোকেট রিয়াজুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট শরিফুল, অ্যাডভোকেট মুত্তাকিন রাতুল এবং অ্যাডভোকেট মেহেদী হাসান।
সহকর্মী আইনজীবীদের দাবি, তারা ৫ আগস্ট–পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের পক্ষে নিয়মিত আদালতে আইনি সহায়তা প্রদান করছিলেন। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন আইনজীবীর দায়িত্ব হচ্ছে বিচারপ্রার্থীর পক্ষে আইনি সেবা দেওয়া, যা সাংবিধানিক ও পেশাগত অধিকারভুক্ত।
সহকর্মীদের প্রশ্ন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে কেন আইনজীবীদের আটক করা হবে। তারা আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন এবং দ্রুত আইনগত ব্যাখ্যা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এখন পর্যন্ত ঠিক কোন অভিযোগে তাদের আটক রাখা হয়েছে, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
আইনজীবী মহলের একটি অংশের মত, কোনো আইনজীবীকে তার পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে আটক করা হলে তা আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারে। তারা ঘটনাটির নিন্দা জানিয়ে আটক পাঁচ আইনজীবীর মুক্তি দাবি করেছেন এবং হয়রানি বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পল্টন থানার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকলে তা আইনগত প্রক্রিয়ায় জানানো হবে।
