লেখকঃ হামজা রহমান অন্তর
জাইমা রহমান খোলা চুলে স্লিভলেস পড়ে ঘুরবেন, নাচবেন, গাইবেন, প্রেম করবেন, মদ খাবেন, প্রেমিককে মন চাইলে জড়িয়ে ধরে চুমু খাবেন- এই স্বাধীনতা নিশ্চিত করার জন্যই বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আদর্শিকভাবে লড়াই করে, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির আদর্শই হলো যেকোনো অবস্থায় যেকোনো নারীর, আই রিপিট, যেকোনো নারীর অবাধ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা।
তবে একই ব্যক্তি যদি আবার পাবলিক ডিমান্ডের জন্য মাথায় কাপড় দেন, চুপচাপ সাজেন, বোরখা পড়েন, মেকি ধার্মিক সাজেন- এই ভণ্ডামির বিরুদ্ধেও আমাদের রাজনীতি। হিপোক্রেসি যেকোনো লেভেলেই হোক, সেটা চরমভাবে ব্যক্তির অসততা প্রকাশ করে। সেক্যুলারিজম মানে শুধু ধর্ম নিরপেক্ষতা নয়, সেক্যুলারিজম মানে লিঙ্গ নিরপেক্ষ, জাতি নিরপেক্ষ, সংস্কৃতি নিরপেক্ষ, ব্যক্তি নিরপেক্ষ। সেক্যুলারিজম মানে মোনাফেকি নয়, জামায়াত-শিবিরের মতো ‘মুখে এক অন্তরে আরেক’ নয়। সেক্যুলারিজম মানে সাহস, সেক্যুলারিজম মানে যেকোনো গোঁড়ামির বিরুদ্ধে চোখে চোখ রেখে কথা বলা।
আমি তো প্রায়শই ওয়াইন ও বিয়ারের বোতল/গ্লাস হাতে বা সামনে নিয়ে ছবি দেই। ইচ্ছে করেই দেই। জানি সমালোচনা হবে, তাও বারবার দেই। কারণ যতদিন ছাত্রলীগ-আওয়ামী লীগ আমাদের মতো মানুষদের মূল নেতৃত্বে আনার জন্য প্রস্তুত না হবে, ততদিন আওয়ামী রাজনীতির আদর্শিক পুনর্জাগরণ ঘটবে না। ততদিন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের আসলে ফেরারও দরকার নেই। আদর্শিকভাবে শক্তিশালী না হলে কি পরিণতি হয়, সেটা আমরা দেখেছি। বারবারই দেখেছি।
আর সমালোচনার ভয়ে একজন বিপ্লবী নেতা কখনো তার লক্ষ্য থেকে সরে যায়না। পপুলিস্ট মতামতের উপর ভিত্তি করে একজন বিপ্লবী নেতা কখনো আদর্শিকভাবে সিদ্ধান্ত নেন না, তিনি নিজের সিদ্ধান্ত বা আদর্শকে পপুলার করে তোলেন, গ্রহণযোগ্য করে তোলেন। আর পচনশীল রাজনৈতিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে বিপ্লবী হতে না পারলে তাকে আমি নেতা হিসেবেই গণ্য করিনা।
