জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ স্পোর্টস জার্সি পরে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। কারও মতে এটি সংসদের মতো রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইনপ্রণয়নকারী প্রতিষ্ঠানের মর্যাদার সঙ্গে অসঙ্গত, আবার সমর্থকদের দাবি এটি আন্দোলনের স্মারক ও প্রতীকী বার্তা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-৪ (দেবীদ্বার) আসন থেকে জয়ী হন হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)–এর প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোটের সমর্থনে নির্বাচন করেন। বর্তমানে তিনি দলের দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক।
শপথের দিন তার পরা জার্সিটির সামনে ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোগো ও ‘English’ লেখা—যা তার বিভাগের নাম নির্দেশ করে। পেছনে ইংরেজিতে লেখা ছিল ‘Hasnat’ এবং নিচে ১০ নম্বর। জুলাই গণঅভ্যুত্থান থেকে শুরু করে বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাকে একই ধরনের জার্সিতে দেখা গেছে।
সংসদ বিষয়ক গবেষক অধ্যাপক নিজামউদ্দিন আহমেদ বলেন, “ফর্মাল অনুষ্ঠানে সমাজের একটি গ্রহণযোগ্যতা থাকে। কাজটা ঠিক হয়নি।” তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন, হয়তো জুলাই আন্দোলনের চেতনা তুলে ধরতেই এমন পোশাক বেছে নিয়েছেন হাসনাত।
অন্যদিকে লেখক ও বিশ্লেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, টি-শার্ট বা জার্সি পরা নিয়ে অতিরিক্ত আপত্তিকে ‘শুচিবায়ু’ বলা যায়। তার মতে, পোশাকের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বের বার্তা দেওয়া হতে পারে।
দীর্ঘদিন সংসদ কভার করা সাংবাদিক কামরান রেজা চৌধুরীর মতে, এটি হয়তো ‘অ্যাটেনশন ড্র’ করার একটি রাজনৈতিক কৌশল। “হাসনাত বোঝাতে চেয়েছেন তিনি আগের মতোই আছেন, জনগণের মানুষ।”
সংসদে এমপিদের জন্য লিখিত কোনো ড্রেসকোড নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে রেওয়াজ অনুযায়ী সাধারণত পাঞ্জাবি-পাজামা, প্যান্ট-শার্ট বা ব্লেজার পরেন সদস্যরা; নারী এমপিরা অধিকাংশ ক্ষেত্রে শাড়ি পরেন।
মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণপত্রে ড্রেসকোড উল্লেখ থাকলেও এমপিদের শপথ অনুষ্ঠানে এমন কোনো লিখিত নির্দেশনার তথ্য পাওয়া যায়নি।
