শান্তিতে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূস বহুদিন ধরেই বলে আসছিলেন দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠাতে হবে। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার ১৮ মাস পর তার বিদায় ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে দারিদ্র্য কি কমেছে, নাকি বেড়েছে?
২০২৪ সালের ৮ আগস্ট দায়িত্ব নেওয়ার পর রাজনৈতিক সমর্থন, জনআকাঙ্ক্ষা ও সংস্কারের সুযোগ সবই ছিল তার হাতে। অথচ আন্তর্জাতিক সংস্থার হিসাব বলছে, এই সময়েই দেশে নতুন করে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দরিদ্র হয়েছেন।
ড. ইউনূস বিদায়ী ভাষণে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩৪ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত হওয়ার কথা উল্লেখ করেন। প্রবাসী আয় বৃদ্ধিও তুলে ধরেন সাফল্য হিসেবে। তবে সমালোচকরা বলছেন, রিজার্ভ কোনো লক্ষ্য নয় এটি একটি উপকরণ মাত্র।
অর্থনীতির অন্যান্য সূচকে চিত্র ছিল ভিন্ন—
- বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৪% থেকে নেমে ২২.৪৮%-এ
- এডিপি বাস্তবায়ন ১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
- খেলাপি ঋণ ৩৫.৭৩%-এ, প্রায় ৬.৪৪ লাখ কোটি টাকা
- সরকারি ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ২৩ লাখ কোটির কাছাকাছি
- মূল্যস্ফীতি ৮.৫%, মজুরি বৃদ্ধি তার নিচে
বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবদুল বায়েসের ভাষায়, “প্রবাসী আয় ও রিজার্ভ ছাড়া প্রায় সব সূচকই ছিল নিম্নমুখী।”
ড. ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার সময় প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দুর্নীতি দমন, বিকেন্দ্রীকরণ, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার, প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করবেন। ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হলেও বাস্তবায়নে কার্যকর অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
তার বিরুদ্ধে স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সুবিধা দেওয়া, কর মওকুফ, লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রদানে বিশেষ সুবিধার অভিযোগও ওঠে। গ্রামীণ গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও সুবিধা দ্রুত পাওয়াও আলোচনায় আসে। যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে তিনি সরাসরি সংবাদ সম্মেলনে ব্যাখ্যা দেননি।
তার আমলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, মব সহিংসতা, ধর্মীয় বিদ্বেষ ছড়ানো এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ভিন্নমতাবলম্বী সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার এবং বিচারবহির্ভূত ঘটনার অভিযোগও এসেছে।
ড. ইউনূসের বিশ্বব্যাপী প্রচারিত ‘তিন শূন্য’ দর্শন শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে বাস্তব রূপ পায়নি বলে সমালোচকদের মত। বরং দারিদ্র্য ও বেকারত্ব দুটোই বেড়েছে বলে দাবি উঠেছে।
