চ্যানেল-১৪ ডেস্ক রিপোর্ট
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক আহ্বানের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির কার্যালয়গুলোতে পুনরায় কার্যক্রমের ইঙ্গিত দেখা যাচ্ছে।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন, ব্যানার টানানো এবং দলীয় স্লোগান দেওয়ার মতো ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
যশোর-বরিশালে পতাকা উত্তোলন
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বরিশাল নগরীর জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে জাতীয় পতাকা উড়তে দেখা যায়। প্রায় ১৮ মাস ধরে কার্যালয়টি নিষ্ক্রিয় অবস্থায় ছিল বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। সকাল থেকে কার্যালয়ের সামনে দলীয় ব্যানারও টানানো দেখা যায়।
যশোর জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ও খুলেছে দলটির নেতাকর্মীরা।
তবে কারা এবং কখন এসব করেছে, সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে বিষয়টি নিয়ে ভিন্নমত দেখা গেছে। কেউ এটিকে দলটির তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ সম্ভাব্য রাজনৈতিক উত্তেজনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। এ বিষয়ে পুলিশ বা প্রশাসনের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যান্য জেলায় একই প্রবণতা
গত কয়েক দিনে দেশের আরও কয়েকটি জেলায় একই ধরনের ঘটনা ঘটেছে—
খুলনা: মহানগর ও জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে তালা ভেঙে প্রবেশের পর জাতীয় পতাকা উত্তোলনের ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া যায়।
ঢাকা: গুলিস্তানে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েকজন ব্যক্তি জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল।
বগুড়া: জেলা কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে; পরে তা সরিয়ে নেওয়া হয়।
ঠাকুরগাঁও (পীরগঞ্জ): উপজেলা কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।
গোপালগঞ্জ ও রাজবাড়ী: সামাজিক মাধ্যমে কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের ছবি প্রকাশিত হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠনের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে এসব উদ্যোগ দেখা যেতে পারে। তবে দলটির কার্যক্রম পূর্বে নিষিদ্ধ বা সীমিত থাকার প্রেক্ষাপটে এসব কর্মকাণ্ডের আইনগত অবস্থান কী হবে—তা এখনও স্পষ্ট নয়।
