গাইবান্ধা প্রতিনিধি
হাইকোর্ট থেকে বারবার জামিন পাওয়ার পরও মুক্তি না পেয়ে গাইবান্ধা জেলা কারাগারেই অসুস্থ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন পলাশবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপাধ্যক্ষ শামীকুল ইসলাম সরকার লিপন।
তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এটিকে ‘হত্যাকাণ্ড’ দাবি করে ফেসবুকে পোস্ট দিয়েছে আওয়ামী লীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ।
জানা গেছে, একটি মামলায় দীর্ঘদিন ধরে গাইবান্ধা জেলা কারাগারে হাজতি ছিলেন শামীকুল ইসলাম লিপন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত মধ্যরাতে কারাগারে তিনি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
কারা কর্তৃপক্ষ প্রথমে তাকে গাইবান্ধা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলা কারাগারের জেলার আতিকুর রহমান জানান, তিনি গাইবান্ধা সদর থানার জিআর ১৭৬/২৫ মামলার হাজতি ছিলেন। এর আগেও কারাগার থেকে চিকিৎসা নিয়েছিলেন তিনি।
শামীকুল ইসলাম সরকার লিপন পলাশবাড়ী পৌর শহরের বৈরি হরিণমারী গ্রামের মরহুম জোব্বার সরকারের তৃতীয় পুত্র।
পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, একটি ‘মিথ্যা’ মামলায় প্রায় দেড় বছর ধরে তিনি কারাবন্দি ছিলেন। পরিবার আরও জানায়, ২০২৪ সালের ৮ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজার এলাকা থেকে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
পরে পলাশবাড়ী থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন পর জামিনে মুক্তি পেলেও ৫ ফেব্রুয়ারি জেলগেট থেকে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সর্বশেষ গাইবান্ধা সদর থানার জিআর ১৭৬/২৫ মামলায় হাজতি হিসেবে তিনি কারাগারে ছিলেন।
আওয়ামী লীগের নেতারা দাবি করেছেন, হাইকোর্ট থেকে ছয়বার জামিন পাওয়ার পরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি এবং বারবার জেলগেট থেকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, এভাবে আইনি প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে তাকে কারাগারেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।
শামীকুল ইসলাম সরকার লিপন ১৯৯৬ সালে পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পরবর্তীতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, ২০১৬ সালে সাধারণ সম্পাদক এবং ২০১৮ সাল থেকে অদ্যাবধি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
পাশাপাশি তিনি পলাশবাড়ী মহিলা ডিগ্রি কলেজে প্রভাষক এবং পরে উপাধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তার মৃত্যুতে পলাশবাড়ী উপজেলার বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও সমবেদনা জানানো হয়েছে।
