নিজস্ব প্রতিবেদক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে অনুষ্ঠিত গণভোটে একাধিক আসনে ভোটের পরিসংখ্যানে অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। কয়েকটি কেন্দ্রে মোট ভোটারের সংখ্যার চেয়েও বেশি ভোট পড়ার তথ্য প্রকাশ হওয়ায় তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। নির্বাচন কমিশন (ইসি) বলছে, এটি ‘মানবিক ও কারিগরি ত্রুটি’ এবং ইতোমধ্যে সংশোধনের প্রক্রিয়া চলছে।
রাজশাহী-৪: ভোটারের চেয়ে বহুগুণ বেশি ভোট
রাজশাহী-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ১৯ হাজার। কিন্তু প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, সেখানে গণভোটে ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে ৭ লাখ ৮১ হাজার—যা মোট ভোটারের প্রায় ২৪৪ শতাংশ। একই আসনে ‘না’ ভোট পড়েছে ৬ লাখ ১২ হাজার বলেও উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়।
নেত্রকোনা-৩: ‘হ্যাঁ’ ভোটই মোট ভোটারের বেশি
নেত্রকোনা-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ২০ হাজার। কিন্তু প্রাথমিক তথ্যে দেখা যায়, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৫ লাখ ২ হাজার। আবার অন্য হিসাবে মোট ভোট কাস্ট দেখানো হয়েছে ২ লাখ ৩৮ হাজার—যা ‘হ্যাঁ’ ভোটের সংখ্যার সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এতে গণনা বা তথ্যপ্রকাশে গোঁজামিলের অভিযোগ উঠেছে।
সিরাজগঞ্জ-১: সংসদ ও গণভোটে ব্যবধান
সিরাজগঞ্জ-১ আসনে গণভোটে ভোট পড়েছে মাত্র ৭ দশমিক ৮৯৯ শতাংশ, অথচ একই আসনে সংসদ নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৬০ দশমিক ৮৩ শতাংশ। দুই ভোটের মধ্যে এমন বড় ব্যবধান নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন সংশ্লিষ্টরা।
চার আসনে শতভাগের বেশি
এ ধরনের অসঙ্গতি অন্তত চারটি আসনে পাওয়া গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। কোথাও মোট ভোটারের চেয়ে বেশি ভোট, কোথাও ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের সংখ্যা মোট কাস্ট হওয়া ভোটের চেয়েও বেশি দেখানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তথ্যপ্রকাশে কিছু ‘হিউম্যান এরর’ বা ‘ক্লারিক্যাল এরর’ হয়েছে। একজন কমিশন কর্মকর্তা বলেন, “মানুষ সারারাত কাজ করেছে, তাই কিছু কারিগরি ত্রুটি হয়েছে। সেগুলো সংশোধন করা হচ্ছে।”
ইসি জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট আসনগুলোর ফল পুনরায় যাচাই করে সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করা হবে।
গণভোটের ফল প্রকাশের পর এমন অসঙ্গতি নির্বাচনি স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। রাজনৈতিক মহল ও নাগরিক সমাজের একাংশ বলছেন, দ্রুত স্বচ্ছ তদন্ত ও নির্ভুল ফল প্রকাশ জরুরি। অন্যথায় গণভোটের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতে পারে।
এদিকে কমিশনের দাবি, সার্বিক ফলাফল চূড়ান্ত করার আগে সব তথ্য যাচাই-বাছাই করা হবে।
