জাতীয় নির্বাচনে বিশাল বিজয় পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছেন বিএনপি নেতা তারেক রহমান। তবে এই বিজয় কেবল ক্ষমতা গ্রহণ নয়, বরং ধ্বংসপ্রাপ্ত রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠন এবং দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তনের এক বিশাল চ্যালেঞ্জ নিয়ে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামীর প্রধানমন্ত্রীর জন্য সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে তার নিজের দলই। গত ১৭-১৮ বছর ধরে নির্যাতিত ও ক্ষতিগ্রস্ত দলীয় নেতারা এখন ‘পুরস্কার’ বা সুযোগ-সুবিধার প্রত্যাশা করবেন। তাদের এই আবেগঘন দাবির মুখে নতি স্বীকার করলে দুর্নীতি ও অপশাসনের পুরনো চক্র আবার শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
তারেক রহমানের ‘আমার একটি পরিকল্পনা আছে’ এই ঘোষণাকে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হলেও, তা বাস্তবায়নে দক্ষ ও সৎ মন্ত্রিসভার কোনো বিকল্প নেই। ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে তারেক রহমানকে এমন একটি মন্ত্রিসভা গঠন করতে হবে যেখানে কেবল ‘আনুগত্য’ নয়, বরং ‘সততা’ ও ‘দক্ষতা’ হবে মূল মাপকাঠি। বিশেষ করে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গভীর রাজনৈতিকীকরণ দূর করা হবে তার সরকারের অন্যতম প্রধান পরীক্ষা।
সংসদে ৭৭ সদস্যের শক্তিশালী বিরোধী দল এবং সচেতন জনগনের নজরদারি এড়িয়ে সুশাসন নিশ্চিত করতে হলে তাকে সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ-এর মতো জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে হবে। প্রবীণদের সম্মান দিয়েও মন্ত্রিসভায় আধুনিক, মেধাবী এবং ব্যবস্থাপনায় দক্ষ তরুণদের অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তারেক রহমান এখন কেবল একজন চিন্তক নন, বরং একজন বাস্তবায়নকারী। ক্ষমতা ও চাটুকারিতার প্রলোভন সামলে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দেওয়াই হবে তার নেতৃত্বের চূড়ান্ত পরীক্ষা।
