খুলনা প্রতিনিধি
বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খুলনা-২ আসনের আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে প্রচারণা চালানোর প্রতিবাদ করায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি হয়। এসময় জামায়াতের কর্মীদের হামলায় পড়ে গিয়ে অসুস্থ হয়ে এক বিএনপি নেতা মারা গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টায় খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মহানগর বিএনপির সাবেক সহ-দফতর সম্পাদক সামসুজ্জামান চঞ্চল বলেন, ভোটগ্রহণের শুরুতে আলিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রের ভেতরে জামায়াতের পক্ষে প্রচার চলছিল। এ সময় খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মহিবুজ্জামান কচি প্রতিবাদ করায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এ সময় ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গিয়ে হার্ট অ্যাটাক হয় কচির। তাকে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি ২০০৯ সালের কমিটির দফতর সম্পাদক ছিলেন। মহানগরীর হাজী মহসিন রোড বাই লেনের বাসিন্দা।
মহানগর বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, খুলনা মহানগর বিএনপির সাবেক দফতর সম্পাদক মহিফুজ্জামান কচি হৃদরোগে আক্রান্ত ইন্তেকাল করেছেন। সকালে খুলনা আলিয়া মাদ্রাসা আলিয়া মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলে অসুস্থ হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
খুলনা সদর থানার ওসি কবির হোসেন বলেন, সকালে ভোট কেন্দ্রের মধ্যে উত্তেজনাসহ ধাক্কাধাক্কি হয়। এতে হার্ট অ্যাটাক হয় বিএনপি নেতার। এরপর হাসপাতালে গেলে মারা গেছেন তিনি।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, সকালে আলিয়া মাদ্রাসা একাডেমিক ভবন কেন্দ্রের অদূরে সামনে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়।
খুলনা সদর থানা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইউসুফ হারুন মজনু অভিযোগ করে বলেন, সকাল থেকেই কেন্দ্রে উত্তেজনা ছিল। আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জামায়াতের প্রচারণায় ছিলেন। তাকে বাধা দিলে তিনি মহিবুজ্জামান কচিকে ধাক্কা দেন। এতে তিনি গাছের সঙ্গে মাথায় আঘাত পান। এতেই তার মৃত্যু হয়েছে।
জামায়াতের কেন্দ্র পরিচালক মাহবুবুর রহমান বলেন, আমাদের নারী কর্মীদের বিএনপির লোকজন বের করে দিচ্ছিল। আমি বাধা দেই। তখন তাদের মধ্যে একজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে শুনি, তিনি মারা গেছেন। কাউকে ধাক্কা বা মারধরের ঘটনা ঘটেনি। মাদ্রাসার সিসি ক্যামেরা আছে চেক করলে সব ধরা পড়বে।
কেন্দ্রের প্রিসাইডিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, ঘটনাটি কেন্দ্রের বাইরে ঘটেছে। এটি আমার বিষয় নয়।
কেন্দ্রের দায়িত্ব পুলিশ কর্মকর্তা সদর থানা এসআই খান ফয়সাল রাফি বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরির সঙ্গে সঙ্গে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষকে সরিয়ে দেই। তখন একজনকে সিএনজিতে করে বাইরে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
খুলনা সিটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. পার্থ রায় বলেন, মৃত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে আনা হয়।
খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু অভিযোগ করেন, আলিয়া মাদ্রাসায় জামায়াত নেতার ধাক্কায় বিএনপি নেতা কচি নিহত হয়েছেন। আমরা অধ্যক্ষ ও জামায়াত নেতা মাহাবুবের গ্ৰেফতারের দাবি জানাই।
জামায়াতে ইসলামী খুলনা-২ আসনের প্রার্থী শেখ জাহাঙ্গীর হোসেন হেলাল বলেন, ঘটনাটি বেদনাদায়ক। ভোটারদের সঙ্গে মতবিরোধ থেকে উত্তেজিত হয়ে তিনি মারা গেছেন। এ ঘটনায় জামায়াতের কোনও কর্মীর সংশ্লিষ্টতা নেই।
খুলনা-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থীর প্রধান এজেন্ট শেখ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি মারা গেছেন। এখানেও জামায়াতকে জড়ানো দুঃখজনক। অধ্যক্ষ জামায়াতের কেউ নন।
খুলনা আলিয়া মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, আমি সবুরণনেসা কেন্দ্র থেকে ভোট দিয়ে বাড়ি প্রবেশ করছিলাম। তখন দেখি কয়েকজন মহিলাদের বের করে দিচ্ছে। আমি সবাইকে যেতে বলি। কাউকে ধাক্কা দেইনি।
