বাংলাদেশের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ঠিক তিন দিন আগে সোমবার ক্যাপিটল হিলে এক কংগ্রেসনাল ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগকে বাইরে রেখে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ‘প্রশ্নবিদ্ধ’ বলে মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে জামায়াতে ইসলামীকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণা, ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা এবং সংখ্যালঘু নিরাপত্তায় অনীহার অভিযোগ তোলা হয়। ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা’ শিরোনামে ‘হিন্দুঅ্যাকশন’ ও ‘কোয়ালিশন অব হিন্দুজ অব নর্থ আমেরিকা’ এই ব্রিফিং আয়োজন করে।
আমেরিকান এন্টারপ্রাইজ ইন্সটিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক মাইকেল রুবিন জামায়াতকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা করে নিষিদ্ধের পক্ষে মতামত দেন। তিনি মুহাম্মদ ইউনূসকে গণতন্ত্র ও মানবতার ‘দুশমন’ বলে অভিহিত করেন এবং ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই বলে মন্তব্য করেন। রুবিন যুক্তি দেন, জামায়াত ধর্মের আড়ালে অন্যায়-অপকর্ম ঢাকে এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক গ্রহণযোগ্য নয়।
রিপাবলিকান কংগ্রেসম্যান টম ব্যারেট (মিশিগান) বলেন, ইসলামিক চরমপন্থীরা দেশে অস্থিরতা তৈরি করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ এশিয়ার শান্তি রক্ষায় বদ্ধপরিকর। ডেমোক্র্যাট কংগ্রেসম্যান সুহাস সুব্রমনিয়ম (ভার্জিনিয়া) জোর দেন, আওয়ামী লীগকে বাদ দিয়ে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতা অগ্রহণযোগ্য। তিনি অ্যাকশনের দাবি জানান যাতে বাংলাদেশ জানতে পারে নির্বাচন অবাধ নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ধর্মীয় স্বাধীনতা অ্যাম্বাসেডর স্যামুয়েল ব্রাউনব্যাক ভার্চুয়ালি বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ভাঙলে অর্থনীতি ও গণতন্ত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি তুলে ধরেন এবং ৩০০ সাংবাদিককে হত্যা মামলায় আসামি করার অভিযোগ করেন। সাউথ এশিয়ান মাইনোরিটিজ কালেক্টিভের প্রেসিডেন্ট প্রিয়া সাহা সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তাহীনতা এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনীহা তুলে ধরেন।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে ছিলেন দীলিপ নাথ, শুভ রায়, আরিফা রহমান রুমা, রানা হাসান মাহমুদ, রিটভিক হ্যারি, অ্যাদেল নজরিয়ানা এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধি শাস্তিকা বিশ্বাস, পূজা দেবি, শায়ান শিল ও প্রেমজিৎ আচারি। কংগ্রেস থেকে নিউ জার্সির সিনেটর কোরি বুকার, মাইক লেভিন, ইয়ং কিম ও ডেভিড মিনের প্রতিনিধিকর্তা উপস্থিত ছিলেন। কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক দ্বীজেন ভট্টাচার্য প্রশ্নোত্তরে অংশ নেন।
এই ব্রিফিং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, বিশেষ করে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত বাণিজ্যচুক্তির প্রেক্ষাপটে। রিপাবলিকান-ডেমোক্র্যাটদের ঐক্যমত্য দেখিয়ে বাংলাদেশ সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে সংখ্যালঘু সুরক্ষা, গণতন্ত্র এবং মানবাধিকারে। এটি নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
