যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের যে বাণিজ্যচুক্তি সই হয়েছে, তা বাস্তবায়নে বাংলাদেশকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার পাশাপাশি সংস্কার করতে হবে। শুল্ক, শ্রম আইন, ডিজিটাল নীতি, কৃষি নিয়ন্ত্রণ, বিনিয়োগ ও জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় ধরনের সংস্কার করতে হবে। সেই সঙ্গে বাণিজ্যঘাটতি কমাতে কিনতে হবে নানা পণ্য।
চুক্তি অনুযায়ী, বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্রের ৬,৭১০টি পণ্যে (সাড়ে চার হাজারে তাৎক্ষণিক শূন্য) কাস্টমস, সম্পূরক ও নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক প্রত্যাহার করতে হবে, যা ধাপে ধাপে ৫-১০ বছরে সম্পন্ন হবে। এতে রাজস্বে ৩৮% চাপ পড়তে পারে, যদিও ভ্যাট-অগ্রিম কর অটুট থাকবে।
প্রতিবর্তায়, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ১,৬৩৮টি পণ্যে (পোশাকসহ) ১৯% পাল্টা শুল্ক দেবে, যা আগের ২০% থেকে কম। তুলা দিয়ে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে শূন্য পাল্টা শুল্কের সুযোগ রয়েছে। কোনো কোটা আরোপের নিষেধাজ্ঞাও চুক্তিতে আছে।
বাংলাদেশকে কী কিনতে হবে: বিমান-জ্বালানি-কৃষি
চুক্তির ৬ নম্বর ধারায় বিমানবাংলাদেশকে ১৪টি বোয়িং বিমান কেনার অভিপ্রায় জানাতে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে আরও বাড়ানোর সুযোগসহ। জ্বালানি আমদানি (এলএনজি সহ) ১৫ বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার এবং কৃষিপণ্যে (প্রতি বছর ৭ লাখ টন গম, ১২৫ কোটি ডলার সয়াবিন, তুলা) ৩.৫ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
সামরিক সরঞ্জাম আমদানি বাড়ানো এবং নির্দিষ্ট দেশ থেকে কেনা সীমিত করার উদ্যোগ নিতে হবে, যদিও দেশের নাম উল্লেখ নেই। চুক্তি কার্যকরের ৬ মাসের মধ্যে ডব্লিউটিওতে সব ভর্তুকির তথ্য জমা দিতে হবে।
অশুল্ক বাধা অপসারণ ও নিয়ন্ত্রণ
যুক্তরাষ্ট্রীয় পণ্যে আমদানি লাইসেন্সিং স্বচ্ছ-বৈষম্যহীন করতে হবে, মার্কিন মান সনদ গ্রহণযোগ্য হবে এবং অতিরিক্ত পরীক্ষা নিষিদ্ধ। কারিগরি বিধিমালা বৈষম্যমুক্ত করা এবং এসপিএস (স্বাস্থ্য-উদ্ভিদ সুরক্ষা) ব্যবস্থা বিজ্ঞানভিত্তিক করতে হবে।
তৃতীয় দেশের কোম্পানির মাধ্যমে মার্কিন পণ্যের কম দামে রপ্তানি ঠেকাতে বাংলাদেশকে ব্যবস্থা নিতে হবে। জৈব প্রযুক্তিপণ্যে ২৪ মাসের মধ্যে নীতি গ্রহণ করে অতিরিক্ত অনুমোদন বন্ধ করতে হবে।
শ্রম, পরিবেশ ও মেধাস্বত্ব সংস্কার
শ্রম খাতে বাধ্যতামূলক শ্রম নিষিদ্ধ, সংগঠিত হওয়ার অধিকার নিশ্চিত এবং ইপিজেডে শ্রম আইন প্রয়োগ বাধ্যতামূলক। পরিবেশ আইন কার্যকর করতে হবে এবং বাণিজ্যে অসাম্য তৈরি করা যাবে না।
মেধাস্বত্বে কপিরাইট-পেটেন্ট সুরক্ষা জোরদার, মাদ্রিদ প্রটোকলসহ আন্তর্জাতিক চুক্তিতে যোগদান বাধ্যতামূলক। অনলাইন লঙ্ঘনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নিতে হবে।
ডিজিটাল, কাস্টমস ও নিরাপত্তা বিধান
ডিজিটাল বাণিজ্যে মার্কিন কোম্পানিতে বৈষম্যমূলক কর নিষিদ্ধ, ইলেকট্রনিক কনটেন্টে কাস্টমস শুল্ক নেই এবং আন্তসীমান্ত ডেটা প্রবাহ অনুমোদন করতে হবে। অন্য দেশের সঙ্গে স্বার্থবিরোধী ডিজিটাল চুক্তি করলে এই চুক্তি বাতিল হতে পারে।
২০৩০ সালের মধ্যে কাস্টমস ডিজিটাল-কাগজবিহীন করতে হবে। জাতীয় নিরাপত্তায় সমুদ্রবন্দর-লজিস্টিকসে সাইবার সুরক্ষা নিশ্চিত, ইএআর পণ্যের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ এবং তথ্য বিনিময় বাধ্যতামূলক। পারমাণবিক জ্বালানি কেনায় কড়াকড়ি।
