নিজস্ব প্রতিবেদক
উত্তরের নীলফামারী জেলায় চীনের অনুদানে এক হাজার শয্যার বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী জেনারেল হাসপাতাল নির্মাণের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। হাসপাতালটি রংপুর বিভাগের মানুষের জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) অনুমোদন দিয়েছে।
তবে চীনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত নিশ্চয়তা, বিনিময়পত্র বা নীতিগত অনুমোদন পাওয়া যায়নি। অর্থাৎ অর্থায়নের বিষয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
এক হাজার শয্যার এই হাসপাতালের মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ২,৪৫৯ কোটি ৩৪ লাখ ৯৭ হাজার টাকা, যার মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন মাত্র ১৭৯ কোটি টাকা, বাকি ২,২৮০ কোটি টাকা চীনা অনুদান হিসেবে দেখানো হয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে স্বাস্থ্য ও গণপূর্ত অধিদপ্তর, মেয়াদকাল ধরা হয়েছে চলতি বছর থেকে ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত।
পরিকল্পনা কমিশন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের নথি অনুযায়ী, চীনা অনুদানের ক্ষেত্রে সাধারণত ধাপভিত্তিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। প্রথমে খাতভিত্তিক চুক্তি, তারপর প্রকল্প চিহ্নিতকরণ, সম্ভাব্যতা সমীক্ষা এবং বিনিময়পত্র স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রকল্প শুরু হয়।
এই হাসপাতালের ক্ষেত্রে পূর্ণাঙ্গ প্রকল্প প্রস্তাব ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই চীনা কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু চীনা পক্ষ এখনও কোনো সম্ভাব্যতা সমীক্ষা শুরু করেনি, বিনিময়পত্র স্বাক্ষর করেননি এবং চূড়ান্ত অনুমোদন বা নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
ডিপিপিতে ব্যয় কাঠামো পুনর্গঠিত করা হয়েছে। আবাসিক ও অনাবাসিক ভবনের ব্যয় ৮০২ কোটি থেকে ১,০৭৯ কোটি টাকা করা হয়েছে। লন্ড্রি, রান্নাঘরের যন্ত্রপাতি, ভ্যাট, অফিস ইক্যুইপমেন্ট, কম্পিউটার ও এক্সেসরিজ খাতও সংযোজন করা হয়েছে। মোট ব্যয় প্রাথমিক প্রস্তাবের তুলনায় ১৬৬ কোটি টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র প্রকল্পে সংযুক্ত হয়নি। স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, ছাড়পত্র প্রাপ্তির পরই নির্মাণকাজ শুরু হবে।
জানানো হয়েছে, যানবাহনের বরাদ্দেও পরিবর্তন এসেছে। ডিপিপিতে পূর্বে একটি জিপ, একটি ডাবল কেবিন পিকআপ ও একটি মাইক্রোবাসের বরাদ্দ থাকলেও পুনর্গঠিত ডিপিপিতে দুটি মাইক্রোবাস ও একটি ডাবল কেবিন পিকআপ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
পরিকল্পনা কমিশন জানিয়েছে, উন্নয়ন সহযোগীর অর্থায়ন নিশ্চিতকরণ, পরিবেশ ছাড়পত্র গ্রহণ এবং ব্যয় যৌক্তিকভাবে নির্ধারণ না করে প্রকল্প শুরু করা উচিত নয়।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ যোগাযোগ চালাচ্ছে। তবে প্রকল্প এখনও প্রাথমিক প্রক্রিয়ায় আছে এবং অর্থায়ন নিশ্চিত হয়নি।
