সাবেক পানিসম্পদমন্ত্রী ও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ৫ বারের সাবেক এমপি রমেশ চন্দ্র সেন (৮৬) শনিবার সকালে দিনাজপুর জেলা কারাগার থেকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন। জেলার ফরহাদ সরকার জানান, গ্রেপ্তারের আগেই অসুস্থ রমেশ সকাল ৯টায় হঠাৎ অবসন্ন হয়ে পড়লে হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক অনুপম পাল ৯টা ২৯ মিনিটে তাঁকে ‘ব্রট ডেথ’ ঘোষণা করেন। ২০২৪ সালের ১৭ আগস্ট আটকের পর রিমান্ড-জিজ্ঞাসাবাদ করে কারাগারে পাঠানো হয় তাঁকে। রুহিয়া ইউনিয়নের ১৯৪০ সালে জন্মগ্রহণকারী রমেশ ২০০৯-১৪ সালে আওয়ামী লীগ সরকারে মন্ত্রী ছিলেন।
আওয়ামী লীগ এই মৃত্যুকে ‘পরিকল্পিত হত্যা’ বলে দাবি করে চলেছে। সভানেত্রী শেখ হাসিনা বিবৃতিতে বলেন, “অবৈধ দখলদার খুনি-ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হত্যা করছে। রমেশ চন্দ্র সেনের হত্যা এর ধারাবাহিকতা। ভিত্তিহীন মামলায় গ্রেপ্তার করে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে।” তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন দমন-পীড়ন বন্ধে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগের হাজারো নেতাকর্মী নির্বিচারে আটক, জামিন মেলছে না। এর আগে সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ূনের (২০২৫-এর ২৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেডিকেল কলেজে মৃত্যু) ঘটনায়ও একই অভিযোগ ও সোশ্যাল মিডিয়ায় হইচই হয়। ২০২৪-এর ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিবর্তন পর থেকে কারাগারে কয়েকশ আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি।
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফেসবুক পেজে শোক জানান, “বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ রমেশ চন্দ্র সেনের মৃত্যুতে গভীর শোক। পরিবারের প্রতি সমবেদনা।” উল্লেখ্য, মির্জা ফখরুল ঠাকুরগাঁও-১ থেকে বিএনপির প্রার্থী।
দিনাজপুর কারাগার কর্তৃক্ষণ এখনো মৃত্যুর কারণ জানায়নি, কিন্তু আওয়ামী লীগের অভিযোগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে।
