আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মুখে ভারত ও মিয়ানমার সীমান্তের অন্তত ৩০টি পয়েন্ট দিয়ে দেশে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকছে। বিজিবি, পুলিশ ও র্যাব সূত্র জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জের রহনপুর রাঘব বাটি, গোপালপুর, মনাকষা, সোনা মসজিদ, আজমতপুর, বিলভাতিয়া; ঝিনাইদহের জুলুলী; যশোরের বেনাপোল-চৌগাছা; রাজশাহীর গোদাগাড়ী, পবা, বাঘা, চারঘাট; চুয়াডাঙ্গার দর্শনা; কুমিল্লার সরাইল; কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়া; সিলেটের জাফলংসহ এই পথগুলো হটস্পট। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রমাণিত, নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতা, খুনোখুনি, চাঁদাবাজি ও আধিপত্যের জন্য এসব অস্ত্র আসছে।
ঢাকায় ২২ জানুয়ারি বিডিবির অভিযানে মো. আজগর আলী (৫৫) কাছে দুটি বিদেশি পিস্তল, ২১ গুলি পাওয়া যায়—যশোরের বেনাপোল হয়ে ভারত থেকে আসা। ১ ডিসেম্বর চাঁপাইনবাবগঞ্জে রয়েল হাসানের কাছে পিস্তল, ৫ গুলি, ২ ম্যাগাজিন মিলে। গত শুক্রবার রাজশাহী সীমান্তে বিজিবি দুটি পিস্তল, ৮ গুলি উদ্ধার করে। পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম বলেন, সীমান্ত থেকে অস্ত্র ঢুকছে বলেই অভ্যান্তরে উদ্ধার হচ্ছে; নির্বাচনে প্রভাব পড়বে না। ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে ৫৮৪৭টি অস্ত্র লুট হয়, এখনো ১৩৬২টি অনুপস্থিত। আগস্ট-ডিসেম্বরে ২০৩৯৩ মামলা হয়েছে।
কমিশনের লোভে চোরাকারবারিরা ছোট চালান ধরিয়ে বড় চালান পার করে। মাছ ধরার ট্রলার-নৌকায়ও অস্ত্র আসছে। এগুলো ডেরায় জমা হয়ে সন্ত্রাসী, উগ্রপন্থী, অসাধু রাজনৈতিক নেতা, ডাকাতদের হাতে যায়। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, নির্বাচনের জন্য নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। বিজিবির পরিচালক মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, ৪৪২৭ কিমি ভারত সীমান্তে ৩০০০ কিমি কাঁটাতার আছে, বিজিবি ৮ কিমি ভিতরে অভিযান চালায়। নিরাপত্তাবিশ্লেষক মেজর জেনারেল (রিট.) মুনীরুজ্জামান বলছেন, লুটের অস্ত্র উদ্ধার না হলে সীমান্তের অস্ত্র হুমকি বাড়াবে; গোয়েন্দা বাড়াতে হবে নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে।
অপারেশন ডেভিল হান্টে ১৫৯৩৬ গ্রেপ্তার, ২৩৬ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে কিন্তু বড় সন্ত্রাসী কম ধরা পড়েছে। ওসমান বিন হাদির হত্যায় ব্যবহৃত অস্ত্র বিদেশি। সীমান্ত সুরক্ষিত রাখাই একমাত্র পথ।