নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি)-কে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়া, বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের অপসারণসহ চার দফা দাবিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ আগামীকাল সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালীন ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে।
এবার বন্দরের জেটির পাশাপাশি বহির্নোঙরেও পণ্য খালাসসহ সব কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। গত বৃহস্পতিবার নৌ উপদেষ্টার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করলেও চেয়ারম্যানের ‘শাস্তিমূলক’ পদক্ষেপে নতুন করে আন্দোলন ঘোষণা করা হয়েছে।
আজ দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মোহাম্মদ ইব্রাহিম খোকন ও মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন। তারা বলেন, নৌ উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকে আশ্বাস পেয়ে দুই দিনের জন্য কর্মবিরতি প্রত্যাহার করেছিলেন। কিন্তু কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চেয়ারম্যান আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ১৫ কর্মচারীর বিরুদ্ধে ‘নৈরাজ্য সৃষ্টি’র অভিযোগ তোলেন এবং দেশত্যাগ নিষেধাজ্ঞা, দুদকসহ সংস্থায় সম্পদ তদন্তের চিঠি দেন। এটিকে উসকানিমূলক বলে অভিহিত করে নেতারা বলেন, আলোচনার পথ বন্ধ করা হয়েছে।
সংগ্রাম পরিষদের মূল দাবি এনসিটি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে ইজারা, চেয়ারম্যানের অপসারণ, আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা প্রত্যাহার এবং শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা। আগের কর্মবিরতিতে জেটি বন্ধ ছিল কিন্তু বহির্নোঙর চালু ছিল। এবার দুটোতেই কাজ বন্ধ। বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ধর্মঘট হলে রপ্তানি-আমদানি ব্যাহত হবে এবং অর্থনৈতিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। বাণিজ্যিক সংগঠনগুলো উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে।
সংগ্রাম পরিষদের এক নেতা বলেন, “চেয়ারম্যানের এই পদক্ষেপ শান্তি প্রক্রিয়া ভেঙে দিয়েছে। দাবি না মানলে আন্দোলন জোরদার হবে।” নৌ পরিবহন উপদেষ্ট্রীদের এক কর্মকর্তা বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে। কর্মচারীদের অধিকার রক্ষায় সরকার সচেতন।” বাণিজ্যিক প্রতিনিধি হাবিবুর রহমান মন্তব্য করেন, “বন্দর বন্ধ হলে দেশের বাণিজ্যে মারাত্মক ক্ষতি। দ্রুত সমাধান দরকার।” চট্টগ্রাম বন্দর দেশের প্রধান বাণিজ্যদ্বার, যেখানে দৈনিক লক্ষ লক্ষ টন পণ্য চালায়।
এই আন্দোলন চট্টগ্রাম বন্দরের দীর্ঘদিনের সমস্যা নিয়ে। এনসিটির ইজারা নিয়ে বিতর্ক চলছে বছরের পর বছর। চেয়ারম্যানের পদক্ষেপ আন্দোলনকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। ধর্মঘট সফল হলে রপ্তানি শিল্প, আমদানি ও অর্থনীতিতে প্রভাব পড়বে। সরকারের উচিত দ্রুত আলোচনায় সমাধান করা। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছে, বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেবে। আন্দোলনকারীরা জানিয়েছে, দাবি আদায় না হলে কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে। পরিস্থিতি নিবিড় নজরে রাখা হচ্ছে।
