নিজস্ব প্রতিবেদক
নির্বাচনি প্রচারণায় অনুমোদনহীনভাবে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করার অভিযোগে ফেনী-৩ সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ফখরুদ্দিন মানিককে কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে একই অভিযোগে ঢাকা-১৭ আসনের আরেক জামায়াত প্রার্থীও শোকজের মুখে পড়েন।
শনিবার ফেনী-৩ আসনের অনুসন্ধানকারী ও বিচারিক কর্মকর্তা সাজ্জাতুন নেছা ফখরুদ্দিন মানিককে এ নোটিশ দেন। নোটিশে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচনি পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুনে নামের আগে ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করেছেন তিনি। তবে প্রার্থী হিসেবে দাখিল করা তার হলফনামায় ‘ডাক্তার’ পদবির কোনো উল্লেখ নেই।
নোটিশে আরও বলা হয়, এমবিবিএস বা বিডিএস ডিগ্রি ছাড়া ‘ডাক্তার’ পদবি ব্যবহার করা গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে ফখরুদ্দিন মানিককে রবিবার সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে ফেনী ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সন্তোষজনক জবাব দিতে ব্যর্থ হলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশনে সুপারিশ পাঠানো হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এর আগে ঢাকা-১৭ সংসদীয় আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী এস এম খালিদুজ্জামানকেও অনুমোদনহীন ‘ডাক্তারী ডিগ্রি’ পদবি ব্যবহারের অভিযোগে শোকজ করা হয়। চিকিৎসকদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) তার বিরুদ্ধে ভুয়া বা অনুমোদনহীন ডিগ্রি ব্যবহারের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়।
বিএমডিসির নোটিশে বলা হয়, কাউন্সিল কর্তৃক স্বীকৃত নয় এমন ডিগ্রি ব্যবহার রোগীর সঙ্গে প্রতারণার শামিল এবং এটি বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল আইনের পরিপন্থি ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে তাকে ১৫ কার্যদিবস সময় দেওয়া হয়েছে।
তবে এস এম খালিদুজ্জামান অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং তাকে হেয় করার চেষ্টা।
নির্বাচনি প্রচারণায় প্রার্থীদের পদবি ও শিক্ষাগত পরিচয় ব্যবহারে আইনি বাধ্যবাধকতা থাকলেও একাধিক আসনে ‘ডাক্তার’ পদবি ঘিরে এ ধরনের অভিযোগ ও শোকজ নোটিশ নির্বাচনি আচরণবিধি ও স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
