আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে অন্তর্বর্তী ইউনুস সরকার ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন দেশি পর্যবেক্ষকের অনুমোদন দেয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, এর বড় অংশ নামসর্বস্ব এনজিও যাদের সঙ্গে জামায়াত-শিবির ও এনসিপির সাংগঠনিক যোগসূত্র রয়েছে। সর্বোচ্চ ১০ হাজার ২৫০ পর্যবেক্ষক পেয়েছে পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা), যার নির্বাহী সৈয়দ হুমায়ুন কবীরকে জামায়াত নেতা বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে। এরা ১২৭টি আসনে নিয়োগপ্রাপ্ত, যেখানে জামায়াতের ঐতিহ্যবাহী ভোটব্যাঙ্ক শক্তিশালী।
পাশার পর কার্ড (কমিউনিটি অ্যাসিস্ট্যান্স ফর রুরাল ডেভেলপমেন্ট) ৩ হাজার ৫৬১ পর্যবেক্ষক পেয়েছে, যাতে জামায়াত-এনসিপি কর্মীদের নাম ব্যাপক। বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ৫৫ হাজারের মধ্যে ৪০ হাজারের বেশি রাজনৈতিক কর্মী বা সমর্থক। এরা লালমনিরহাট, রংপুর, নওগাঁ, যশোর, সিলেটসহ জামায়াতের শক্তিবিন্যাস এলাকায় নিযুক্ত। গত ডিসেম্বরে পাশা-কার্ডসহ ১৫টি নামসর্বস্ব সংস্থা একযোগে অনুমোদিত হয়েছে, যাদের স্থায়ী অফিস বা কার্যক্রমের রেকর্ড নেই।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পর্যবেক্ষকরা বিএনপি প্রার্থীদের বিরুদ্ধে প্রোপাগান্ডা চালাবে, ভোট না মিললে ‘অসুস্ঠু’ দাবি তুলবে এবং জামায়াত-সমর্থিত ফলাফলে ‘স্বচ্ছ’ বলবে। সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানোরও পরিকল্পনা। বিএনপির এক নেতা বলেন, “এটি সংগঠিত ষড়যন্ত্র। জামায়াতকে নির্বাচনে টক্কর দেওয়ার প্রকল্প। ইসি পক্ষপাতদুষ্ট।” নির্বাচন বিশেষজ্ঞ ড. বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন, “পর্যবেক্ষক ছদ্মবেশে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ নির্বাচনের স্বচ্ছতা নষ্ট করবে। ইসির যাচাইবাছাইয়ে বড় ত্রুটি।”
ইসি জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেছেন, শর্ত পূরণকারী সংস্থাগুলো অনুমোদিত। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, নির্বাচন কি জনগণের ভোটে হবে নাকি পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদনে? এই ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়েছে এবং সরকারের উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ জাগিয়েছে। জনমতের চাপে তদন্তের দাবি উঠছে। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সকল পক্ষকে সতর্ক থাকতে হবে।
