চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
যুক্তরাজ্যে ডিপি ওয়ার্ল্ডের একটি বৃহৎ বন্দর প্রকল্পে কুখ্যাত মার্কিন অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইনের সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বিদেশি অপারেটর বাছাইয়ের পেছনে কী ধরনের প্রভাব কাজ করে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ–এর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৯ সালে টেমস নদীর তীরে ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ে ‘লন্ডন গেটওয়ে’ বন্দর নির্মাণের সময় ডিপি ওয়ার্ল্ডকে সহায়তা করেছিলেন জেফরি এপস্টেইন। তিনি ডিপি ওয়ার্ল্ডের চেয়ারম্যান সুলতান আহমেদ বিন সুলায়েমের সঙ্গে ইমেইল যোগাযোগের মাধ্যমে তৎকালীন ব্রিটিশ বাণিজ্য সচিব পিটার ম্যান্ডেলসনকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করেন।
মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত নথিতে দেখা যায়, সুলায়েমের বিনিয়োগ ও সরকারি ঋণ গ্যারান্টি–সংক্রান্ত ইমেইল এপস্টেইন নিজে ম্যান্ডেলসনের ব্যক্তিগত ঠিকানায় ফরোয়ার্ড করেছিলেন। ইমেইলগুলোতে প্রকল্পটিকে যুক্তরাজ্যের বৃহত্তম অবকাঠামো বিনিয়োগ হিসেবে তুলে ধরে কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক অবদানের কথা উল্লেখ করা হয়। এপস্টেইন কিছু ইমেইলের ভাষা সংশোধনও করেছিলেন বলে নথিতে উঠে এসেছে।
পরবর্তীতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের আর্থিক সহায়তায় ডিপি ওয়ার্ল্ড প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে এবং ২০১০ সালে বন্দর নির্মাণের কাজ শুরু হয়। তবে এপস্টেইনের সঙ্গে রাজনৈতিক ও আর্থিক যোগাযোগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর যুক্তরাজ্যে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, যার জেরে পিটার ম্যান্ডেলসন লেবার পার্টির সদস্য পদ থেকেও পদত্যাগ করেন।
বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে প্রশ্ন কেন
এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশেও চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনা ও উন্নয়নে বিদেশি অপারেটর যুক্ত করার উদ্যোগ ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি–রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ পরিচালনা করে এবং এটি জাতীয় অর্থনীতির জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন প্রকাশ্যে বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য হলো বন্দরের চলমান ও ভবিষ্যৎ কাজ সম্পন্ন করে যাওয়া। তাঁর ভাষায়, “আমাদের বন্দরের কাজ শেষ করেই যেতে হবে।” এই বক্তব্যের পর বিদেশি অপারেটর, বিশেষ করে ডিপি ওয়ার্ল্ডের মতো আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।
অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রশাসনিক সংস্কার, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ ও দক্ষ ব্যবস্থাপনার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেছেন। তাঁর সরকারের সময়ে অবকাঠামো খাতে বিদেশি বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক অংশীদারিত্ব নিয়ে নীতিগত আলোচনা শুরু হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠছে।
