জাতিসংঘের অধীন শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে অবস্থানমুখর বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ইনকিলাব মঞ্চের বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশ শুক্রবার বিকেলে টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে ছত্রভঙ্গ করে। দুপুর ২টার দিকে ব্যারিকেডের সামনে অবস্থান শুরু হলেও বিকেলে বাধা অতিক্রমের চেষ্টায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এসময় ইট-পাটকেল নিক্ষেপে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
বিক্ষোভকারীরা হাদি হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছিলেন। পুলিশের হস্তক্ষেপের পর এলাকায় অস্থায়ীভাবে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় সূত্র জানায়, বিক্ষোভকারীরা পুলিশি ব্যারিকেড অতিক্রম করতে চাইলে প্রথমে সতর্কবাণী দেওয়া হয়, কিন্তু না মানলে শস্যগ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করা হয়। ঘটনাস্থলে পুলিশের বর্শা চার্জ ও বিক্ষোভকারীদের প্রতিরোধের মধ্যে সংঘর্ষ হয়।
ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি। অন্যান্য আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে চোখে আঘাত লাগার অভিযোগ রয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের একজন নেতা বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণভাবে দাবি জানাচ্ছিলাম। পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। জাতিসংঘ তদন্ত ছাড়া আমরা পিছু হটব না।” পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, “বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করায় আত্মরক্ষার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কোনো মৃত্যুর খবর নেই।”
মানবাধিকার কর্মী রিনা রানী মন্তব্য করেন, “পুলিশের এই বলপ্রয়োগ বিক্ষোভকারীদের অধিকার লঙ্ঘন। সরকারকে তদন্তের আহ্বান জানানো উচিত।” আইনবিদ রহিমুজ্জামান বলেন, “শান্তিপূর্ণ সমাবেশে এমন দমন নির্বাচনী পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। দায়ীদের বিচার হওয়া দরকার।” ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং ট্রাফিক স্বাভাবিক হয়েছে।
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিতর্ক চলে আসছে। ইনকিলাব মঞ্চ এই ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবিতে বারবার আন্দোলন করে আসছে। আজকের বিক্ষোভও সেই সিলসিলার অংশ। সরকারের পক্ষ থেকে এখনো কোনো ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়নি। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া জাগিয়েছে। বিক্ষোভকারীরা জানিয়েছে, তারা আন্দোলন অব্যাহত রাখবে এবং নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি তুলে ধরবে। পুলিশ বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই সংঘর্ষ নির্বাচনী পরিবেশে উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে।
