ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সবচেয়ে বেশি ১০ হাজার ৫৫৯ পর্যবেক্ষকের অনুমোদন দিয়েছে পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামক সংস্থাকে। এটি মোট ৫৫ হাজার দেশি পর্যবেক্ষকের ১৯ শতাংশ। অথচ এই সংস্থার কার্যালয় হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বরমপুর গ্রামে নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের বাসা, লোকবল একজন। ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ১২৭টি আসনে এদের পর্যবেক্ষক নিযুক্ত হবে বলে ইসি জানিয়েছে।
সংস্থাটি ১৯৯৩ সালে সমাজসেবা অধিদপ্তরে নিবন্ধিত। কাগজে তাদের কার্যক্রম বৃক্ষরোপণ, যৌতুকবিরোধী আন্দোলন ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ। কিন্তু কোনো সক্রিয় প্রকল্প নেই, অন্য এনজিওর সহযোগী হিসেবে কাজ করে। এবার তারা অন্য সংস্থাকে ‘নিয়োগ’ দিচ্ছে পর্যবেক্ষণে। পাশার পর দ্বিতীয় সংখ্যায় কার্ড (৩,৫৬১ পর্যবেক্ষক)। স্থানীয়ভাবে ৩০০ আসনে ৪৭ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষকের মধ্যে পাশার ১০ হাজার ২৫০ জন ১২৭ আসনে। মৌলভীবাজারের ৪ আসনে সর্বোচ্চ, যেমন মৌলভীবাজার-৩-এ ৩০৫ জন। উত্তরাঞ্চল (রংপুর, নওগাঁ) ও সিলেট-হবিগঞ্জেও আধিক্য।
চুনারুঘাট থেকে ৩০ কিমি দূরে বরমপুরে হুমায়ুনের একতলা বাড়িতে পাশার সাইনবোর্ড। দুপুরে ফটক তালাবন্ধ, ভিতরে কেউ নেই। প্রতিবেশী শফিকুল ইসলাম ও জুনায়েদ মিয়া বলেন, এটি শুধু বাসা, অফিসের কাজ হয় না। স্থানীয় ব্যবসায়ী কাদির মিয়া বলেন, “সাইনবোর্ড আছে, কিন্তু পাশা কী করে জানি না।” অতীতে হবিগঞ্জ শহরে অফিস ভাড়া নিয়ে নারী চাকরির নামে অভিযোগে বাসিন্দারা তাড়িয়ে দিয়েছে। চুনারুঘাট-শায়েস্তাগঞ্জেও স্থায়ী হয়নি। অভিযোগ: অল্প টাকায় পর্যবেক্ষক কার্ড বিক্রি।
হুমায়ুন প্রথম আলোকে বলেন, তারা ক্ষুদ্রঋণ-স্বাস্থ্য-শিক্ষায় সহযোগী। খরচ ইইউ থেকে আসবে, না হলে স্বেচ্ছাসেবা। প্রশিক্ষণ শুধু দলনেতাদের। কার্ড বিক্রির অভিযোগে বলেন, “ভালো কাজে সমালোচনা থাকবেই।” ইসি জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ বলেন, “শর্ত পূরণ করেছে, পরিকল্পনায় ব্যত্যয় নেই। তথ্য দিলে ব্যবস্থা নেব।” সুজনের প্রধান নির্বাহী বদিউল আলম মজুমদার বলেন, “যাচাইবাছাইয়ে ত্রুটি, পক্ষপাতদুষ্ট সংস্থা অনুমোদিত। ইসির সক্ষমতা নষ্ট হচ্ছে।”
গত বছর ২৭ জুলাই নতুন নিবন্ধন আহ্বান করে ইসি। ৭ নভেম্বর ৬৬টি, ডিসেম্বরে পাশাসহ ১৫টি নিবন্ধিত। মোট ৮১টি। অতীতে ২০২৪-২০১৮ নির্বাচনে আব্দুল আলীর ফোরাম ও সার্ক ফাউন্ডেশন নিয়ে বিতর্ক। সুজন বলছে, প্রার্থী বাছাই-আপিলেও শিথিলতা। এই নির্বাচনে পাশার বিপুল উপস্থিতি নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। জনমতের চাপে ইসি তদন্ত করতে পারে। পর্যবেক্ষকরা ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করে প্রতিবেদন দেবে, কিন্তু তাদের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ।