জুলাই দাঙ্গার সময় সাভারের আশুলিয়ায় সাতজনকে হত্যা ও ছজনের লাশ পোড়ানোর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেছে। বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ সাবেক সংসদ সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামসহ ছয়জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং সাতজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে। রায় ঘোষণার পর সাজাপ্রাপ্ত সাবেক এসআই আবদুল মালেক কাঠগড়া থেকে বেরিয়ে এসে কোর্টপ্রাঙ্গণে উচ্চস্বরে প্রকৃত অপরাধীদের নাম ফাঁস করেন।
রায়প্রাপ্ত ছয়জনের মধ্যে মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের পাশাপাশি অন্যান্য আসামিরা হলেন আবদুল মালেকসহ পাঁচজন। বিচারকারীরা বলেন, প্রমাণের ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থল আশুলিয়া এলাকায় জুলাই মাসে গণঅভ্যুত্থানের সময় সাতজন নিরীহ মানুষকে হত্যা করে লাশ পোড়ানো হয়েছিল, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত। তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে, আসামিরা সংগঠিতভাবে এই কাজ সংঘটন করেছিল।
রায় ঘোষণার পর পুলিশ পাহারায় কোর্ট থেকে বের হওয়ার সময় আবদুল মালেক সাংবাদিকদের দিকে চিৎকার করে বলেন, “এসআই মনির আগুন দিয়েছে। রাজসাক্ষী এসআই শেখ আবজালুল হক জড়িত ছিল। মিথ্যা মামলায় কেন সাজা দিলো? যারা জড়িত তাদের আনা হয়নি। আল্লাহ বিচার করবে।” তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে এবং ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করেছে।
আশুলিয়া থানার সহকর্মীরা আবদুল মালেককে “নিরীহ ও সৎ” কর্মকর্তা হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একজন সহকর্মী বলেন, “এই লোক লাশ পুড়িয়েছে এটা তার শত্রুও বিশ্বাস করবে না। নিতান্ত নিরীহ মানুষ ছিলেন তিনি।” মানবাধিকার কর্মী রহিমা বেগম বলেন, “এই রায়ে প্রক্রিয়াগত ত্রুটির ছাপ স্পষ্ট। রাজসাক্ষীদের ভূমিকা তদন্ত করা উচিত।” আইনজীবী ফরহাদ হোসেন মন্তব্য করেন, “আসল অপরাধীদের রক্ষায় নিরপরাধদের সাজা দেওয়া হলে বিচারব্যবস্থার উপর জনগণের আস্থা নষ্ট হবে।”
জুলাই-আগস্ট তথাকথিত আন্দলনের সময় ঘটে যাওয়া এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছিল। তদন্তে অভিযোগ উঠেছে যে, এসআই মনিরের মতো ব্যক্তিদের আসামি করা হয়নি, যদিও তারা ঘটনায় জড়িত। রায়টি একপেশে বলে অভিযোগ করা হচ্ছে এবং অনেকে এটিকে কাঙ্গারু আদালতের সঙ্গে তুলনা করছেন। এই মামলা জুলাই অভ্যুত্থানের মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রথম দিকের রায়গুলোর একটি।
রায়ের পর আইনি চ্যালেঞ্জ এবং জনমতের প্রতিক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। আবদুল মালেকের অভিযোগ রাজনৈতিক-প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের দিকে ইঙ্গিত করে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের প্রতিনিধি জানিয়েছেন, রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ রয়েছে এবং তদন্তে নতুন তথ্য এলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এই ঘটনা জুলাই দাঙ্গার স্মৃতিকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে এবং বিচারব্যবস্থায় স্বচ্ছতার দাবি বাড়িয়েছে।
