রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় রূপলাল দাস ও তার জামাতা প্রদীপ লাল দাসকে পিটিয়ে হত্যা মামলার এক আসামি জামিনে মুক্ত হয়ে বাদীপক্ষকে হুমকি দিচ্ছেন—এমন অভিযোগ উঠেছে। মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগী পরিবারের।
সোমবার নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী দাস থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তারাগঞ্জ থানার এসআই প্রদীপ কুমার বর্মণ।
অভিযোগে ভারতী রানী উল্লেখ করেন, গত বছরের ৯ আগস্ট ‘চোর সন্দেহে’ জনতার হাতে তার স্বামী ও জামাতা নিহত হন। পরদিন তিনি তারাগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও ভিডিও বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িত ১২ জনকে গ্রেপ্তার করে।
ভারতী রানীর অভিযোগ, গ্রেপ্তার আসামিদের একজন মো. রুবেল পাইকার (৩০) সম্প্রতি জামিনে বেরিয়ে ২২ জানুয়ারি তারাগঞ্জ বাজারে তাকে ও তার ছেলে জয় রবিদাসকে দেখে মামলা তুলে নিতে হুমকি দেন। এছাড়া আরেক আসামি সোহাগও বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন বলে দাবি তার।
ভারতী রানী বলেন, ন্যায়বিচারের আশায় মামলা করলেও এখন তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। আসামিরা প্রকাশ্যে গালিগালাজ ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে বলে অভিযোগ তার। সংসারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ছেলে জয় রবিদাসও আতঙ্কে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
জয় রবিদাস বলেন, ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে রুবেল পাইকার ও সোহাগকে স্পষ্ট দেখা যায়। তবু সোহাগ এলাকায় ঘুরে বেড়ালেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি। মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়ায় পরিবারটি ভীতসন্ত্রস্ত বলে জানান জয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে রুবেল পাইকার বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ বানোয়াট। তিনি দাবি করেন, বাদীপক্ষকে কখনো হুমকি দেননি এবং তাদের সঙ্গে তার কোনো যোগাযোগও নেই। অন্য আসামি সোহাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত বছরের ৯ আগস্ট রাতে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে বাড়ি ফিরছিলেন রূপলাল দাস। সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের থামিয়ে তল্লাশি করেন।
প্রদীপের ব্যাগ থেকে একটি বোতল ও ওষুধ পাওয়া গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে দুজনকে পাশের একটি বিদ্যালয় মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দেওয়া হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে রূপলাল দাসকে মৃত ঘোষণা করা হয়। প্রদীপ লাল দাস পরদিন রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
পুলিশ জানিয়েছে, নতুন অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
