নিজস্ব প্রতিবেদক
শেরপুরে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে সংঘর্ষে জামায়াত নেতার মৃত্যুকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক ও অনাকাঙ্ক্ষিত’ ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করলেও, এই সহিংসতা পরিকল্পিত কি না—সে প্রশ্ন তুলেছে বিএনপি।
দলটির দাবি, ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, সংঘাতের ধরন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজ একাধিক গুরুতর প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
বৃহস্পতিবার গুলশানে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র মাহ্দী আমীন।
তিনি বলেন, নিহত ব্যক্তি যে দলেরই হোন না কেন, প্রাণহানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তবে শেরপুরের ঘটনাকে নিছক ‘চেয়ারে বসাকে কেন্দ্র করে হঠাৎ সংঘর্ষ’ হিসেবে ব্যাখ্যা করা বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না।
তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, জামায়াতের প্রার্থীকে সংঘাত এড়াতে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য পুলিশ, প্রশাসন, সেনাবাহিনী এবং বিএনপির সিনিয়র নেতারা বারবার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধ উপেক্ষা করে তিনি সংঘাতপূর্ণ পথেই যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে আগে থেকেই লাঠিসোঁটা প্রস্তুত থাকার বিষয়টিও ভিডিওতে স্পষ্ট।
মাহ্দী আমীনের ভাষায়, এসব দৃশ্য স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন তোলে—এই সংঘাত কি পরিকল্পিত ছিল? কারা এতে মদদ দিয়েছে? কেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হলো?
বুধবার শেরপুর-৩ আসনের ঝিনাইগাতী উপজেলা মিনি স্টেডিয়াম মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি রেজাউল করিমসহ উভয় দলের অন্তত অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। পরে রাত পৌনে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার সময় রেজাউল করিমের মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর জামায়াত ও ইসলামী ছাত্র শিবির বিভিন্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভে বিএনপি ও দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জড়িয়ে স্লোগান দেওয়া হয়।
এই প্রসঙ্গে মাহ্দী আমীন বলেন, একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভিত্তিহীন বয়ান তৈরি করে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি ইতিবাচক রাজনীতি চায়, দোষারোপের রাজনীতি নয়।
সংঘাতের সূচনার জন্য সরাসরি জামায়াতের নেতাকর্মীদের দায়ী করে বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণার অনুষ্ঠানে সব রাজনৈতিক দলের জন্য নির্ধারিত আসন থাকা সত্ত্বেও জামায়াতের নেতাকর্মীরা আগে থেকেই সব চেয়ার দখল করে রাখেন এবং বিএনপির জন্য নির্ধারিত আসন ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। প্রশাসন বারবার অনুরোধ করলেও তারা তা মানেননি।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও সহনশীল নির্বাচনি পরিবেশ প্রত্যাশা করা হয়েছিল। কিন্তু শেরপুরের ঘটনাটি সেই প্রত্যাশাকে ব্যাহত করেছে এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
মাহ্দী আমীন আরও বলেন, আহতদের অনেকেই এখনো আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এই ঘটনার দ্রুত, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত প্রয়োজন, যাতে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হয় এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সব রাজনৈতিক দলকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে এবং প্রশাসনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করতে হবে।
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দাবি জানিয়ে বিএনপির এ মুখপাত্র বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপির অগ্রাধিকার একটি শান্তিপূর্ণ, বিতর্কমুক্ত ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় থাকলে জনগণের মাধ্যমেই রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে।
