বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে জনস্রোতে পরিণত হয় রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও আশপাশের সড়ক। যতদূর চোখ যায়, শুধু মানুষ আর মানুষ। কালো পোশাক ও কালো ব্যাজ পরা বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সেখানে হাজির হন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার সাধারণ মানুষ।
বেগম খালেদা জিয়ার মরদেহ জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে রাখা হয়। বেলা ২টায় জানাজা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও বিপুল জনসমাগমের কারণে তা শুরু হয় বিকেল ৩টায়। জানাজা পড়ান বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব আবদুল মালেক। জানাজা সঞ্চালনা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান মায়ের রুহের মাগফিরাত কামনা করে সবার কাছে দোয়া চান।
জানাজা শেষে মরদেহ চন্দ্রিমা উদ্যানে নেওয়া হচ্ছে, যেখানে সাবেক রাষ্ট্রপতি ও তার স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে তাকে সমাহিত করা হবে।
এর আগে বেলা ১১টার দিকে জাতীয় পতাকায় ঢাকা খালেদা জিয়ার লাশবাহী গাড়ি গুলশানের ১৯৬ নম্বর বাসা থেকে রওনা হয়। ওই গাড়িবহরের সঙ্গে একটি বাসে ছিলেন তারেক রহমান ও তার পরিবারের সদস্যরা। সকাল সোয়া ৯টার দিকে এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে কফিন ওই বাসভবনে নেওয়া হয়। পাঁচ দিন আগে লন্ডন থেকে দেশে ফিরে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সেখানেই অবস্থান করছিলেন তারেক রহমান।
মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের পশ্চিম প্রান্তে স্থাপিত মঞ্চে কফিন রাখা হয়। উল্লেখযোগ্যভাবে, ১৯৮১ সালের ২ জুন একই স্থানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে সরকার তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছে। পাশাপাশি বুধবার সাধারণ ছুটি রয়েছে। তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় এসেছেন ভারত ও ভুটানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা।
প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জানিয়েছে, জাতীয় সংসদ ভবনের ভেতরের মাঠ, বাইরের অংশ এবং পুরো মানিক মিয়া অ্যাভিনিউজুড়ে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
গত ২৩ নভেম্বর থেকে খালেদা জিয়া ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। মঙ্গলবার ভোর ৬টায় তার মৃত্যুর ঘোষণা আসে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে প্রথমবারের মতো নারী প্রধানমন্ত্রী হন খালেদা জিয়া। টানা ৪১ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দেওয়া এই নেত্রী পাঁচবার সংসদ সদস্য এবং তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর মধ্যে দুইবার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করেন। ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও ওই মেয়াদ এক মাসেরও কম স্থায়ী ছিল।
