আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে ভারতের এক কূটনীতিকের সঙ্গে গোপন বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। বুধবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, চলতি বছরের শুরুতে ওই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় এবং সেটি গোপন রাখার অনুরোধ আসে ভারতীয় দূতের পক্ষ থেকেই।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অন্যান্য দেশের কূটনীতিকদের প্রকাশ্য যোগাযোগের সঙ্গে এই বৈঠকের ধরন ভিন্ন ছিল। তবে তিনি বিষয়টিকে অস্বাভাবিক হিসেবে দেখছেন না। তাঁর ভাষায়, পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নের বিকল্প নেই এবং সব পক্ষের সঙ্গে খোলা মনে যোগাযোগ বাড়ানো জরুরি।
এই বৈঠক কিংবা তা গোপন রাখার অনুরোধ প্রসঙ্গে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ভারতীয় সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে নয়াদিল্লি।
এদিকে বুধবার ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় অংশ নিতে বাংলাদেশ সফরে এসেছেন, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বাড়তি মনোযোগ তৈরি করেছে।
প্রায় ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। ২০২৪ সালের আগস্টে তরুণদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দলটি আবার সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিরেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, শেখ হাসিনার শাসনামলে ঢাকা-নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের অবসানের পর ভারতের কৌশলগত অবস্থান পুনর্গঠনের অংশ হিসেবেই বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক শক্তিগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছে দিল্লি।
সম্ভাব্য সরকার গঠন প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াত যদি কোনো ঐক্যভিত্তিক সরকারের অংশ হয়, তাহলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। তাঁর মতে, দেশের অন্তত পাঁচ বছরের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে জরুরি।
পাকিস্তানের সঙ্গে অতীত সম্পর্ক নিয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, দলটি কোনো একটি দেশের দিকে ঝুঁকে পড়তে চায় না। বরং সব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবভিত্তিক সম্পর্ক বজায় রাখাই তাদের নীতি।
