মহান বিজয় দিবসে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ১৬ ডিসেম্বর উপলক্ষে কক্সবাজার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রাফিতি মুছে দিয়ে আঁকা হয় শৈল্পিক আলপনা, যা দেখতে অনেকটা বিয়েবাড়ি বা পহেলা বৈশাখের সাজসজ্জার মতো। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
শহীদ মিনার সাধারণত মহান মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও শহীদদের স্মরণে ব্যবহৃত হলেও এবারের সাজসজ্জায় সেই প্রেক্ষাপট অনুপস্থিত ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। অনেকেই মন্তব্য করেন, বিজয় দিবসের মতো একটি রাষ্ট্রীয় দিবসে এ ধরনের আলপনা শহীদ মিনারের মর্যাদার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
ফেসবুকে রোকসানা আক্তার রক্সি লিখেছেন, “মনে হচ্ছে বিয়েবাড়ি কিংবা বৈশাখের আলপনা।” কাব্য সৌরভ মন্তব্য করেন, “এটা তো আলপনা মিনার হয়ে গেল।”
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক জিনিয়া শারমিন রিয়া বলেন, এখানে কোনো উৎসব বা নববর্ষ উদযাপন হচ্ছে না। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার, তাই এই জায়গায় প্রাসঙ্গিক ও ইতিহাসভিত্তিক উপস্থাপনাই প্রত্যাশিত ছিল।
কক্সবাজার সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী মাইনুদ্দিন হাবিবের মতে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সব প্রজন্মের গর্ব। কিন্তু এই সাজসজ্জা সেই ইতিহাসকে গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো পরিবেশটাকে দৃষ্টিকটু করে তুলেছে।
বিতর্ক ছড়িয়ে পড়ার পর সন্ধ্যা ৭টার দিকে সরেজমিনে শহীদ মিনার পরিদর্শনে যান কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। তিনি আলপনাগুলো দ্রুত অপসারণের নির্দেশ দেন এবং গণমাধ্যমকে জানান, দেয়ালের আঁকাগুলো মুছে ফেলা হবে।
রাত ৯টার দিকে দেখা যায়, প্রশাসনের উদ্যোগে শহীদ মিনারের দেয়াল লাল-সাদা কাপড়ে ঢেকে রং করে আলপনাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে।
এর আগে সোমবার সন্ধ্যার কিছু আগে স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আব্দুর রশিদ মানিক তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে একটি ভিডিও পোস্ট করে বিষয়টি তুলে ধরেন। ভিডিওতে তিনি বলেন, বিজয় দিবসের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলেও শহীদ মিনারের দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধের কোনো স্মৃতি বা বার্তা না থাকাটা অত্যন্ত হতাশাজনক।
