নিজস্ব প্রতিনিধিঃ বিদেশে স্থায়ী হওয়া, পদোন্নতির সুযোগ কমে যাওয়া এবং চাকরির প্রতি অনাস্থাকে কেন্দ্র করেই সিলেটে সরকারি চাকরি থেকে আগাম অবসর নেওয়ার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। মানসিক বা শারীরিক অক্ষমতা দেখিয়ে গত দুই বছরে বিভিন্ন দপ্তরে শতাধিক কর্মী আগাম অবসরের আবেদন জমা দিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সিলেটের বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে ১১০টি আবেদন জমা পড়ে। এর মধ্যে ২০২৪ সালেই আবেদন করেন ৫২ জন কর্মী। আবেদনকারীদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদস্য, শিক্ষক এবং বিভিন্ন দপ্তরের অন্যান্য চাকরিজীবী।
সিলেটের সিভিল সার্জন মো. নাসির উদ্দিন জানান, ২০২২ সালে ১৬ জনকে বিভিন্ন কারণে অক্ষম ঘোষণা করা হয়। ২০২৩ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৫ জন, আর ২০২৪ সালে অক্ষম ঘোষণা করা হয় ২৫ জনকে।
প্রার্থীদের উল্লেখিত অক্ষমতার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য আবেদনগুলো পাঠানো হয় সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আবেদনকারীর শারীরিক বা মানসিক সমস্যার ধরন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট বিভাগের চিকিৎসকদের নিয়ে গঠন করা হয় মেডিকেল বোর্ড।
এ বিষয়ে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক বদরুল আমিন বলেন, আবেদনের ধরন অনুযায়ী কোন বিভাগ থেকে মতামত প্রয়োজন, সে ভিত্তিতে বোর্ড গঠন করা হয়।
বিশিষ্টজনদের মতে, বিদেশে স্থায়ী হওয়া, পদোন্নতির সুযোগ কমে যাওয়া এবং ব্যক্তিগত ব্যবসা বা বিনিয়োগে আর্থিক নিরাপত্তা খোঁজার প্রবণতা আগাম অবসরের প্রধান কারণ হয়ে উঠছে।
এতে সরকারি দপ্তরের সেবাদানে ঘাটতি তৈরি হচ্ছে বলেও জানান সুশাসনের জন্য নাগরিকের সহ-সভাপতি অধ্যাপক তাহমিনা ইসলাম। তিনি বলেন, অনেক দপ্তরে জনবল কম থাকা অবস্থায় আগাম অবসরে গেলে সেবাদানের ক্ষেত্রে বড় ধরনের গ্যাপ তৈরি হয়।
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বদরুল আলম শিপন জানান, ভুয়া বা জাল ডকুমেন্ট দিয়ে কেউ অবসরের আবেদন করলে তা ফৌজদারি অপরাধ।
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে কেউ যাতে এই সুবিধা নিতে না পারে, সেজন্য বিভাগীয় এবং আইনি ব্যবস্থা আরও কঠোর করতে হবে।
